ইসরায়েলে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকালে বাসচাপায় নিহত ১
-
বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ইসরায়েলের অধিকৃত আল-কুদস (জেরুজালেম) শহরে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরুদ্ধে আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের বিক্ষোভ চলাকালে বাসের ধাক্কায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত এবং অন্তত তিনজন আহত হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ও পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের নাম ইওসেফ আইজেনথাল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোতে এই খবর ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
চিকিৎসাকর্মীরা জানান, কয়েক হাজার আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে ওই কিশোরকে বাসটি চাপা দেয়।
এই বিক্ষোভের আয়োজন করেন আল্ট্রা-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন রাব্বি। শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে বক্তৃতা ও সমাবেশ চললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালায়, ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ইয়ারমিয়াহু স্ট্রিট ও শামগার স্ট্রিটের সংযোগস্থলসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদোম (এমডিএ) জানায়, শামগার স্ট্রিটে একটি বাস প্রথমে তিনজন পথচারীকে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি ওহেল ইয়েহোশুয়া স্ট্রিটে গিয়ে আরও একজন বিক্ষোভকারীকে আঘাত করে।
আহতদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৪ ও ১৭ বছর। চিকিৎসকদের মতে, তিনজনই তুলনামূলকভাবে হালকা আঘাত পেয়েছেন।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তায় জ্বালানো আগুনের মধ্য দিয়ে বাসটি একটি মোড় অতিক্রম করছে। সে সময় একজন বিক্ষোভকারী বাসের নিচে পড়ে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর সাংবাদিকরা জানান, জরুরি উদ্ধারকারীরা বাসের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জনতাকে সরিয়ে দেয়।
এমডিএ’র জরুরি চিকিৎসা কর্মী এলি আইজেনবাখ বলেন, উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান এক তরুণ বিক্ষোভকারী বাসের নিচে আটকা পড়েছেন। তার নাড়ির স্পন্দন ছিল না, শ্বাস-প্রশ্বাসও চলছিল না এবং তিনি গুরুতরভাবে আহত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, কিশোরটি একাধিক অঙ্গের মারাত্মক আঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
চালকের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার পর পুলিশ বাসচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, চালক তাদের জানিয়েছেন যে বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা তাকে আক্রমণ করেছিল।
হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে ফেলেন, চলাচল বন্ধ করে দেন এবং চালককে হেনস্তা করেন। এ অবস্থায় চালক জরুরি পুলিশ হটলাইনে ফোন করে সহায়তা চান।
ঘটনার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান শুরু করে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের দিকে বিভিন্ন বস্তু ও ডিম নিক্ষেপ করে, রাস্তায় আগুন জ্বালায়, সড়ক অবরোধ করে এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশ জানায়, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক পাথরের আঘাতে আহত হন এবং তাদের চিকিৎসা নিতে হয়। বাসচাপার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইসরায়েলিরা দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের বিরোধিতা করে আসছেন। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের যুক্তিতে তারা কয়েক দশক ধরে সেনা নিয়োগ থেকে ছাড় পেয়ে আসছিলেন। তবে ২০২৩ সালে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত এই ব্যাপক ছাড় বাতিল করে দেয়। এর ফলে সেনা সংকট মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী নতুন করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স তরুণদের খসড়া নোটিশ পাঠানো শুরু করে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের কারণে দেশটির সেনাবাহিনী ব্যাপক চাপে রয়েছে। বর্তমানে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইসরায়েলি এখনও সেনা নিয়োগের জন্য নিবন্ধন করেননি।#
পার্সটুডে/এমএআর/৭