যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপমূলক ও প্রতারণাপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, এই মন্তব্যগুলো ইরানি জাতির প্রতি ওয়াশিংটনের চলমান শত্রুতারই প্রতিফলন এবং দেশটিতে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই করা হয়েছে।
আজ (বুধবার) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, "যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইরানের জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, বরং এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে 'সর্বাধিক চাপ, হুমকি এবং হস্তক্ষেপ' নীতি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। এই হস্তক্ষেপমূলক অবস্থান সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে উস্কানি দেয়ার পাশাপাশি দেশটির স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।"
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সংবিধানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের স্বীকৃতি রয়েছে এবং আইনের কাঠামোর মধ্যে বৈধ গণদাবিগুলো সমাধানে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, কিন্তু এই সমস্যাগুলোর একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ ও অন্যায্য একতরফা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির বিরুদ্ধে চাপানো পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক যুদ্ধের ফল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে , ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কার্যক্রম অর্থনৈতিক চাপের বাইরেও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, মিডিয়া প্রচারণা, ভুল তথ্য ছড়ানো, সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে উস্কানি দেয়ার মাধ্যমে বিস্তৃত।
বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে , এই ধরনের আচরণ জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা, আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যতামূলক নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার ভিত্তির পরিপন্থী।
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ শত্রুতা ও হস্তক্ষেপের রেকর্ড স্মরণ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৯৫৩ সালে দেশটির তৎকালীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মোসাদ্দেক সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের উপর ইরাকের বাথিস্ট শাসনের আট বছরের চাপানো যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, জুন মাসে তেল আবিবের অবৈধ যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশাপাশি অংশগ্রহণ এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের একপক্ষীয় কঠোর পদক্ষেপের অবৈধ ও মানবতাবিরোধী প্রকৃতি স্বীকার করতে, কারণ এসব নিষেধাজ্ঞা সরাসরি ইরানিদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও একইভাবে ওয়াশিংটনের অযাচিত বক্তব্যের জবাব দিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় কেবলই তার জনগণের নিজস্ব বিষয়।
তেহরানে সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এই শীর্ষ কূটনীতিবিদ বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বৈদেশিক হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাইরের কোনো শক্তির নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই বলে তিনি জোর দিয়েছেন।
সম্প্রতি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানি মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়নের পর সৃষ্ট বিচ্ছিন্ন দাঙ্গা-হাঙ্গামা, যা তারা বলছে তেহরানের 'দমন' এর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক আগ্রাসনের পথ নেবে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র বারবার জোর দিয়ে বলেছে, দেশটি অর্থনৈতিক বিক্ষোভ মোকাবিলায় যথাযথ প্রচেষ্টা চালাবে, কিন্তু বিক্ষোভকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টার দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৮