যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফোরামে অভিযোগ করল ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/event-i156468-যুক্তরাষ্ট্র_ও_ইসরায়েলের_বিরুদ্ধে_আন্তর্জাতিক_ফোরামে_অভিযোগ_করল_ইরান
ইরান জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং কয়েকটি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফোরামে আইনি ও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
(last modified 2026-02-27T14:27:25+00:00 )
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১৯:২০ Asia/Dhaka
  • ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেয়ি (ডান থেকে দ্বিতীয়)
    ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেয়ি (ডান থেকে দ্বিতীয়)

ইরান জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং কয়েকটি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফোরামে আইনি ও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিবাদী পক্ষগুলো দেশটির নিরাপত্তা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।

ইরানে বিদেশি উসকানিতে সংঘটিত দাঙ্গা গত ৮ জানুয়ারি তীব্র আকার ধারণ করে এবং কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে। এর আগে ইরানের বাজার ও বিপণিকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল, যেখানে ব্যবসায়ীরা ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন ঠেকাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে উসকানি এই সহিংসতা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বহু দোকানপাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনসেবামূলক স্থাপনা ধ্বংস করা হয় এবং নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন ও ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থাগুলো ওই সহিংসতায় সরাসরি জড়িত ছিল। তারা দাঙ্গাকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অর্থ, প্রশিক্ষণ ও মিডিয়া সমর্থন দিচ্ছিল।

এ বিষয়ে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেয়ি বলেছেন, "সাম্প্রতিক সহিংস দাঙ্গার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই মূল হোতা। কেবল পরোক্ষভাবে নয়, বরং সরাসরি ও প্রকাশ্যভাবে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।"

সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িতদের মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সংক্রান্ত এক সভায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গার সময় 'অপরাধী আমেরিকা' ও 'জায়নবাদী ইসরায়েল" সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারীদের প্রকাশ্যে আর্থিক, সামরিক ও প্রশিক্ষণ সমর্থন দিয়েছে। তিনি যোগ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে ১২ দিনের যুদ্ধের আরেকটি ধাপ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

মোহসেনি এজেয়ি আরো বলেন, "যারা রাস্তায় ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় হামলা চালিয়েছে, অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এবং গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল।"

তিনি যোগ করেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিক হত্যায় জড়িতদের প্রতি কোনরকম নমনীয়তা দেখানো হবে না।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান জোর দিয়ে বলেন, যারা অশান্তিতে অংশ নিয়েছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

তিনি বলেন, “দাঙ্গার  পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা, প্ররোচনাকারী কিংবা সরাসরি অপরাধে জড়িতদের আইনগত শাস্তির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে।”#

পার্সটুডে/এমএআর/২৬