সাম্প্রতিক ইরান-মার্কিন উত্তেজনা
সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দুর্বলতা নিয়ে মার্কিন সাময়িকীর প্রতিবেদন
-
একটি মার্কিন ঘাঁটি
পার্স-টুডে: মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে লিখেছে—পেন্টাগন হয়তো ইরানের বিরুদ্ধে একটি “সীমিত বিমান হামলা” চালাতে সক্ষম, কিন্তু ইরানের প্রতিশোধমূলক জবাব মোকাবিলার জন্য তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের ঘাঁটিগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
নিউইয়র্কে সদরদপ্তর থাকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা জবাব বিবেচনায় নিয়ে ওয়াশিংটন সরকারকে যেকোনো হামলার আগে প্রথমে ওই অঞ্চলে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
পত্রিকাটি মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, খুব শিগগিরই ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানো হবে না; কারণ পেন্টাগন বর্তমানে ইরানের সম্ভাব্য জবাব মোকাবিলার জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে “ইসরায়েল”, আরব মিত্র দেশগুলো ও ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করছে।
রাই আল-ইয়াওম–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যানুসারে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন—যদি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেন, তবে পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে একটি “সীমিত বিমান হামলা” চালাতে পারবে, কিন্তু ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় তারা যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।
তারা আরও উল্লেখ করেছেন, যদিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর একাধিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তবে উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে—পেন্টাগন এখনও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে, যেমন জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারে, অতিরিক্ত থাড (THAAD) ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি পুরোপুরি মোতায়েন করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ইরান-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুসান মালোনি এই পত্রিকাকে বলেন,“আমাদের অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা রয়েছে। সেটি হলো—ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার বিরুদ্ধে আমাদের বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগেই মোতায়েন করা উচিত ছিল।”
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে, তবে ইতিবাচক ফল পাওয়ার বিষয়ে তিনি খুব বেশি আশাবাদী নন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি রবিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো হামলা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।
ইরানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, চাপ, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তন ঘটানো। এ কারণে তেহরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—যেকোনো হামলার জবাবে, এমনকি তা সীমিত হলেও, তারা “ব্যাপক ও নজিরবিহীন” প্রতিক্রিয়া জানাবে।
অন্যদিকে, “ইসরায়েল” ও তার মার্কিন মিত্র ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে; যদিও তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত—যার মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন অন্যতম। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/০৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।