নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত এবং হামলা বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি জামায়াতের
https://parstoday.ir/bn/news/event-i156996-নির্বাচনে_অনিয়মের_তদন্ত_এবং_হামলা_বন্ধ_না_হলে_কঠোর_কর্মসূচির_হুঁশিয়ারি_জামায়াতের
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একাধিক আসনে ভয়াবহ অনিয়ম, ফলাফল ঘষামাজা এবং নির্বাচনের পর দেশজুড়ে হামলা-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে এসব ঘটনার অবিলম্বে তদন্ত দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ফ্যাসিবাদী তৎপরতা এখনই বন্ধ না হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
(last modified 2026-02-13T16:32:04+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ ২২:২৯ Asia/Dhaka
  • বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান
    বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একাধিক আসনে ভয়াবহ অনিয়ম, ফলাফল ঘষামাজা এবং নির্বাচনের পর দেশজুড়ে হামলা-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে এসব ঘটনার অবিলম্বে তদন্ত দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ফ্যাসিবাদী তৎপরতা এখনই বন্ধ না হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

আজ (শুক্রবার) রাতে ঢাকার মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কর্মী-সমর্থক, এজেন্ট ও ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। তিনি এসব ঘটনাকে সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদী তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর ২০২৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই নির্বাচনের পর আবার যদি একই আচরণ দেখা যায়, তাহলে তা জাতির জন্য গভীর হতাশার বিষয় হবে। এ ধরনের অপকর্মের সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে, যেভাবেই পেয়ে থাকুক, এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরকেই নিতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে, যদি তারা সরকার গঠন করেন, এটা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু এখন এগুলো কীসের আলামত? এখন এগুলো বন্ধ করতে হবে। এখনই যদি বন্ধ করা না হয়, আমরা বাধ্য হবো যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, অনেক আসনে ফল সম্প্রচার চলাকালে হঠাৎ দুই থেকে চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কোথাও হাজার হাজার ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থী শেষ মুহূর্তে হারিয়ে গেছেন। তার দাবি, জামায়াতের কাছে রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা ও পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্ট রয়েছে এবং কিছু আসনে দ্বৈতনীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, একই পরিস্থিতিতে এক আসনে ব্যালট গ্রহণ করা হলেও অন্য আসনে তা বাতিল করা হয়েছে। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এক দেশে কি দুই আইন চলবে? নির্বাচন কমিশন কি একেক জায়গায় একেকভাবে আইন প্রয়োগ করবে?

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির আরও বলেন, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দলের ওপরই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব বর্তায়। কিন্তু নির্বাচনের পর যেভাবে সহিংসতা চলছে, তা উদ্বেগজনক। এসব বন্ধ না হলে ১১ দলীয় ঐক্য কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বলে জানান তিনি।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা যা দেখেছেন তা আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরবেন, পাশাপাশি জামায়াতও নিজস্বভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত ভদ্রতা ও ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, তবে সেই আচরণকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে।

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, জামায়াত আপামর জনগণের পক্ষে আছে এবং থাকবে। তরুণ সমাজ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা বাস্তবায়নের লড়াই চলবে। প্রয়োজনে রাজপথে নামার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব ক্ষেত্রে আরপিও লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, সেসব আসনের ফল স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা করা উচিত।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে ১১ দলকে চলতে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। অনেকে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে বলব- আরপিও যাদের কাভার করে না, তাদের ফলাফল স্থগিত করে এর সুরাহা করুন।

গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবায়ন না হলে আমরা কণ্ঠ চালিয়ে যাব। অনেক নিয়মবহির্ভূত কাজ করার পরও একটা দল সন্তুষ্ট হতে পারছে না, উল্টো অভিযোগ করছে। আমাদের প্রশ্ন- তারা আর কী চায়?

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।#