ক্যারিবীয় সাগরে আরেকটি নৌযানে মার্কিন ড্রোন হামলা, নিহত ৩
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157016-ক্যারিবীয়_সাগরে_আরেকটি_নৌযানে_মার্কিন_ড্রোন_হামলা_নিহত_৩
ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নতুন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
(last modified 2026-02-14T12:38:42+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১৭:৪৯ Asia/Dhaka
  • ক্যারিবীয় সাগরে আরেকটি নৌযানে মার্কিন ড্রোন হামলা, নিহত ৩

ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নতুন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, তারা ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচারের সন্দেহে আরেকটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। সাউথকমের দাবি, নৌযানটি পরিচিত মাদকপাচার রুট ব্যবহার করছিল এবং মাদক পরিবহনের কাজে জড়িত ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

সাউথকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, একটি নৌযান সমুদ্রপথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পর সেটি “লিথাল কিনেটিক স্ট্রাইক” বা প্রাণঘাতী অস্ত্রের আঘাতে বিস্ফোরিত হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৩৮টি এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ হামলার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের অভিযানে নিহতদের মাদক পাচারকারী বলে দাবি করলেও, সে বিষয়ে খুব সামান্য প্রমাণই প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা, আইন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকারকর্মীরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলরত নৌযান লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।

৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে এবং নৌযানে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগই থাকুক না কেন- বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লাতিন আমেরিকা থেকে মাদক পাচারকারী কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত 'সশস্ত্র সংঘাতে' জড়িত।

তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মাদকবিরোধী যুদ্ধের আড়ালে লাতিন আমেরিকার কিছু দেশে শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা এবং সম্পদ আহরণ সহজ করার কৌশল থাকতে পারে। তাদের মতে, পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বজায় রাখাই এ আগ্রাসী নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৪