ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট-ছবি প্রকাশ
https://parstoday.ir/bn/news/event-i159576-ইরানি_হামলায়_ক্ষতিগ্রস্ত_ইসরায়েলি_সামরিক_ঘাঁটির_স্যাটেলাইট_ছবি_প্রকাশ
পার্সটুডে: নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট ছবিগুলো ইরান ও হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনার ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে, তেলআবিব প্রকৃত ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন করছে কি না— এসব ছবি সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
(last modified 2026-05-22T11:01:29+00:00 )
মে ২২, ২০২৬ ১৬:২১ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষামূলক হামলায় ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
    ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষামূলক হামলায় ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে

পার্সটুডে: নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট ছবিগুলো ইরান ও হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনার ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছে, তেলআবিব প্রকৃত ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন করছে কি না— এসব ছবি সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সোয়ার (Soar) প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষামূলক অভিযান “অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪”-এর সময় অধিকৃত ভূখণ্ডজুড়ে কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এই অভিযানটি ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে পরিচালিত হয়েছিল।

এই অপ্ররোচিত আগ্রাসন শুরু হয় বিমান হামলার মাধ্যমে, যেখানে ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তাদের হত্যার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং এই আগ্রাসনে শহীদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনেয়ীও ছিলেন।

এর জবাবে ইরান  গোটা অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি এবং সামরিক সম্পদের ওপর বিধ্বংসী হামলা চালায়।

শুক্রবার সামরিক সেন্সরের অনুমোদন নিয়ে প্রকাশিত ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর প্রতিবেদনে নিম্নমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা সম্পর্কে আরও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের চিত্রে দেখা যায়, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটির দুটি পৃথক স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকায় সহায়ক যানবাহন ও সাজ-সরঞ্জাম রাখা ছিল, আর দ্বিতীয় অংশটি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ও সার্ভিসিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতো—যা ইসরায়েলের বিমান অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

চিত্রগুলো আরও ইঙ্গিত দেয় যে সাফেদের কাছে অবস্থিত ইউনিট ৮২০০-এর সিগন্যাল গোয়েন্দা ঘাঁটি “মিশার বেস”-এর একটি স্থাপনার কাছে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা গেছে। সোয়ারের বিশ্লেষণ বলছে, ৫ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে ওই ঘাঁটিতে হামলা হয়ে থাকতে পারে।

অতিরিক্ত কপির স্যাটেলাইট ছবিতে নেভাতিম বিমানঘাঁটির একটি অবস্থানে ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়, যা ২৫ মার্চ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

এছাড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, ১০ মার্চ ক্যাম্প শিমশনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছিল—যেদিন হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছিল যে তারা ড্রোনের বহর ব্যবহার করে ওই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগুনটি কয়েক দিন ধরে জ্বলেছে এবং ঘাঁটির ভেতরে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

২০১৬, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের পুরোনো উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবির সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি ধারাবাহিকভাবে সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হতো, যার মধ্যে সামরিক যান মোতায়েন ও রসদ প্রস্তুতির কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পূর্বের ছবিগুলোতে ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্ভিদ ছিল না, “যা প্রমাণ করে যে আগুনটি ঘাঁটির ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ফলেই সৃষ্টি হয়েছে, কোনো গাছপালা পুড়ে যাওয়ার কারণে নয়।”

ইসরায়েলি সামরিক সেন্সরদের ইচ্ছাকৃতভাবে ছবির মান কমিয়ে দেয়া থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ হয়তো ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের কার্যকারিতা কম করে দেখানোর চেষ্টা করছে।

ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর তথ্য অনুযায়ী, অপ্ররোচিত আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইরান অধিকৃত ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৬৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৬৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামরিক মহল উদ্বিগ্ন যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে নেই।

৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুদ্ধ আপাতত বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন এবং ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা যুদ্ধ শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছে। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।