প্রধানমন্ত্রীর শোক
ঘুমের মধ্যেই আগুন, দিল্লির হোটেলে প্রাণ গেল ২১ জনের
-
বেজমেন্টে আগুন, মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে হোটেলে
ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। আগুন থেকে বাঁচতে আতঙ্কে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে কয়েকজনকে লাফিয়ে পড়তেও দেখা গেছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে মালভিয়া নগরের পাঁচতলা ফ্লোরিশ স্টে হোটেলের বেজমেন্টে অবস্থিত লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন পাশের মিকাসা ইন হোটেলেও ছড়িয়ে যায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। প্রথমে দুটি ইঞ্জিন পাঠানো হলেও পরে আরও কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট, পানিবাহী যান ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলটিতে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক, যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন। কাছেই দক্ষিণ দিল্লির একটি বড় হাসপাতাল থাকায় চিকিৎসাপ্রার্থীদের কাছে হোটেলটি জনপ্রিয় ছিল।
আগুন লাগার সময় বেশিরভাগ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে অনেকেই সময়মতো বের হতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন প্রাণ বাঁচাতে ভবনের ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দেন। তাঁদের আঘাত কমাতে নিচে তোশক বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চার থেকে ছয়জনকে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হয়েছে।
হোটেলটির রাঁধুনি কেসর সিং জানান, সকাল আটটার দিকে তিনি রান্নাঘরে প্রবেশ করে একটি বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার চেষ্টা করেন। তখনই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তাঁর ধারণা। তিনি দ্রুত সহকর্মীদের সতর্ক করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি কোনোভাবে বেরিয়ে এসে প্রাণে রক্ষা পান।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি প্রশাসন হোটেলটিকে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন দিয়েছিল, যেখানে সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রায় ২৫টি কক্ষ ছিল। এমনকি বেজমেন্টেও কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে হোটেলটির বৈধ অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল কি না। ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল বলেও জানা গেছে।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারত সরকার নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষ।#
পার্সটুডে/এমএআর/৩