দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা’র জোয়ার: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে জেন-জি’র বিশাল সমাবেশ
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160078-দিল্লিতে_ককরোচ_জনতা’র_জোয়ার_শিক্ষামন্ত্রীর_পদত্যাগ_দাবিতে_জেন_জি’র_বিশাল_সমাবেশ
নিটসহ (NEET) বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
(last modified 2026-06-06T11:06:09+00:00 )
জুন ০৬, ২০২৬ ১৬:৫৭ Asia/Dhaka
  • দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা’র জোয়ার: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে জেন-জি’র বিশাল সমাবেশ

নিটসহ (NEET) বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

আজ (শনিবার) সকাল থেকেই দলে দলে সিজেপি সমর্থক ও সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরে হাজির হলে পুরো এলাকা একপ্রকার ‘ককরোচ জনতা’র জোয়ারে ভেসে যায়। খাতায়-কলমে কোনো রাজনৈতিক দল না হলেও, এদিনের সমাবেশে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA), এসএফআই (SFI) এবং আম আদমি পার্টির (আপ) সদস্যদের একাংশকে অংশ নিতে দেখা গেছে। এছাড়া বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং সমাবেশকে সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দেশে ফিরলেই সিজেপির (যা মূলত তেলাপোকার রূপকে তরুণদের একটি প্রতীকী নাগরিক আন্দোলন) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন অনেকেই। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা ধর্নাস্থলে এসে পৌঁছান। সাদা টি–শার্টের ওপর কালো জ্যাকেট ও কালো টুপি পরা অভিজিতের হাতে এ সময় দেখা যায় ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মজীবনী।

যন্তর মন্তরের এক পাশে গড়ে তোলা ছোট একটি মঞ্চের পেছনে সিজেপির প্রতীকের নিচে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘পিসফুল প্রটেস্ট’ বা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। সেই মঞ্চে উঠে অভিজিৎসহ তরুণদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তাঁরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দো’, ‘জয় ভীম’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘গোদি মিডিয়া চোর হ্যায়’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পেপার লিক সরকার কতবার আসবে?’ অনেক তরুণ সেখান থেকেই ফেসবুকে বিক্ষোভ সমাবেশটির লাইভ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেন।

বক্তব্য রাখছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে 

মঞ্চে সংক্ষিপ্ত ভাষণে অভিজিৎ দীপকে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘দেশের যুব প্রজন্ম আর ভয় পাচ্ছে না। প্রায় একমাস ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে আসছি। এই নির্লজ্জরা সেই লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ না করে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যান করা, পোস্ট নিষিদ্ধ করার মতো কাজ করছে। আপনারা আমাদের পোস্ট ডিলিট করতে পারেন, কিন্তু আমাদের মুছে ফেলতে পারবেন না।’’

সরকারকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আর কতদিন হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি করবেন?’’

অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার তাদের দাবিগুলো পূরণ না করে বরং সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম ও নজরদারির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই নির্লজ্জরা দাবি মানার কোনো পদক্ষেপ না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যান করা বা পোস্ট নিষিদ্ধ করার মতো কাজ করছে।

বিক্ষোভ চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান জানান, তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং সরকারের সমালোচনা করার কারণে তিনি জেল খাটতে পারেন, এমন আশঙ্কায় তার মা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। নিজের পারিবারিক আবেগের কথা টেনে তিনি বলেন, “আমার মা ভীষণ ভয়ে ছিলেন যে এই সরকার হয়তো আমাকে জেলে পুরে দেবে। এই দেশে, যখনই কোনও সন্তান এই সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তখনই প্রতিটি মায়ের মনে এই ভয়ের সৃষ্টি হয়।” এরপরই সরকারকে লক্ষ্য করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “কতদিন আমরা এই সরকারের ভয়ে বেঁচে থাকব? দেশের যুব প্রজন্ম আর ভয় পাচ্ছে না, তারা লড়বে। তেলাপোকা ভয় পায় না, মরেও না।”

সরকার শুধু তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি না করে দাবিকে গুরুত্ব দিলে অনেক আগেই শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির সমাবেশ

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির আন্দোলনের জোয়ার দেখে বিজেপি এই আন্দোলনকারীদের 'পাকিস্তানপন্থী' বলে অভিহিত করেছিল এবং দাবি করেছিল মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরস এই আন্দোলনের মূল মদদদাতা।

তবে সব উসকানি এড়িয়ে অভিজিৎ দীপকে আগেই সবাইকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। কারো প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা না এনে সবার হাতে যেন একটি করে বই, জাতীয় পতাকা ও সংবিধান থাকে।

শনিবারের এই সমাবেশ থেকেই ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ২৩ জুন দিল্লির রামলীলা ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দ্বিতীয় বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৬