এ সমঝোতা আত্মসমর্পণ-তুল্য, কিন্তু আরও ক্রমবর্ধমান বিপর্যয় এড়াতে জরুরি: ক্রিস মারফি
এক অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র শুরুর বিন্দুতে ফিরেছে: ডেমোক্রেটদের মন্তব্য
-
মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য সিনেটর ক্রিস মারফি
পার্সটুডে: কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা, যাদের অধিকাংশই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন, সংঘাতের অবসান ঘটাতে অর্জিত সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র একটি অপ্রয়োজনীয় ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর কার্যত আবার শুরুর অবস্থায় ফিরে এসেছে।
মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের জন্য হওয়া সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে এই যুদ্ধের মূলত কোনো দরকার ছিল না এবং অর্জিত সমঝোতা কেবল একটি বিধ্বংসী সংঘাতের পর পরিস্থিতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে।
ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ক্রিস কুনস বলেছেন, এই সমঝোতা পরিস্থিতিকে “সঠিক পথে” নিয়ে যাচ্ছে, তবে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সমঝোতার বিষয়বস্তু নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কুনস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “যদিও যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি, তবুও এখন পর্যন্ত এই বেছে নেওয়া যুদ্ধ কেবল মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিকদের নিরাপত্তা কমিয়ে দিয়েছে এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও জবাবহীন বা অমীমাংসিত রয়ে গেছে।”
সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য সিনেটর ক্রিস মারফিও বলেছেন, এই সমঝোতা “ইরানের কাছে আত্মসমর্পণের” সমতুল্য, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এতে “খুশি হওয়া উচিত, কারণ এই উন্মাদ ও অবৈধ যুদ্ধ যতদিন চলবে, আমরা ততই দুর্বল হয়ে পড়ব। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
এই মার্কিন আইনপ্রণেতার মতে, ইরান যে একমাত্র ছাড় দিয়েছে তা হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, যা সংঘাত শুরুর আগেও খোলা ছিল।
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, ইরান এর আগেও যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (JCPOA বা পরমাণু চুক্তি)-এর অধীনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।
আজ ভোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, যার দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার খবর দেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদির মতে, দ্বিতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে।
তিনি বলেন, “শুক্রবার আমরা একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান করব। দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে আলোচনা করবে। এরপর যখন যাচাই করা হবে যে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করেছে—যার মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান সমাপ্তি এবং ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ মুক্ত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত—তখনই আমরা অবিলম্বে আলোচনায় প্রবেশ করব।” #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।