পবিত্র মক্কা সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের নিন্দা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘মহান বিজয়’ অর্জন করায় ইরানকে আনসারুল্লাহ নেতার অভিনন্দন
-
আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথি
পার্সটুডে: ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা সাইয়্যেদ আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অর্জিত “মহান বিজয়”-এর জন্য ইসলামি ইরানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার হিজরি নতুন বা নতুন ইসলামি বছর উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথি ইরানের নেতৃত্ব ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তারা “এই যুগের উদ্ধত অত্যাচারী শক্তি—আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের” মোকাবিলায় বিজয় অর্জন করেছে।
তিনি একই সঙ্গে ইয়েমেনের জনগণকে দেশের কিছু অংশে চলমান সৌদি-আমেরিকান অবরোধ ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথি আনসারুল্লাহ নেতা বলেন, অঞ্চলকে লক্ষ্য করে যেকোনো উত্তেজনা বৃদ্ধি, গাজাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা কিংবা প্রতিরোধ অক্ষের যেকোনো অংশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইয়েমেন সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বিশ্বের সব মুসলমানকে প্রতিরোধ অক্ষে যোগ দেয়ার এবং ইসলামের শত্রুদের অধীনতা থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথি বলেন, ইয়েমেন ইসলামের শত্রু এবং মানবসমাজের শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি “জায়নবাদী তথা ইহুদিবাদী ইহুদি” ও তাদের পশ্চিমা সমর্থকদের, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে, কুরআন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামের পবিত্র বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে বারবার অবমাননার জন্য অভিযুক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র মক্কা সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন।
আনসারুল্লাহ নেতা দাবি করেন, ইসলামের শত্রুরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের মাধ্যমে মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে এবং তাদের ধ্বংস, ভূমি দখল, পরিচয় মুছে ফেলা ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হামলার চেষ্টা করছে; যার মধ্যে (মুসলমানদের প্রথম কিবলা) আল-আকসা মসজিদও রয়েছে।
তিনি বলেন, এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এ লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা করা সব মুসলমানের দায়িত্ব। তিনি “জিহাদ ও প্রতিরোধের অক্ষে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব” এবং “সংগ্রামের ময়দানগুলোর ঐক্য” নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, হুথি ইয়েমেনের জনগণকে আগ্রাসন, দখলদারিত্ব এবং মার্কিন-সৌদি অবরোধের অবসান ঘটাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান, যাতে ইয়েমেন পূর্ণ স্বাধীনতা ও মুক্তি লাভ করতে পারে এবং নিজের জাতীয় সম্পদ থেকে উপকৃত হতে পারে।
তিনি সরকারি ও জনপর্যায়ে সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে দেশের বৃহৎ অংশের দখল, তেল ও গ্যাস সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ।
আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথির মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং আগ্রাসন, দখলদারিত্ব ও অবরোধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করা জরুরি, যাতে ইয়েমেন মর্যাদার সঙ্গে, পরাধীনতা ও বিদেশি হস্তক্ষেপমুক্ত অবস্থায় জীবনযাপন করতে পারে এবং তার ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি মহান পুনর্জাগরণ অর্জন করতে পারে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি-আমেরিকান অবরোধ ও যুদ্ধ ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হয়। ওই সময় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির বিরুদ্ধে “অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম” নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
অভিযান শুরুর পর থেকেই ওই জোট ইয়েমেনের ওপর আকাশপথ, স্থলপথ ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে দেশটির খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।