আপাতত পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতই, অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না আদালত
-
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্ট আজ (বৃহস্পতিবার) এ বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত বিরোধী দলনেতার পদে বহাল থাকছেন ঋতব্রত।
স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানান, বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। তবে মামলাটি গ্রহণ করে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সমর্থক বিধায়কেরা অভিযোগ করেন, ওই চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এরপর ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি জানিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। গত ৩ জুন স্পিকার সেই আবেদন মেনে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
উল্লেখ্য, এর আগেই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
আদালতে শোভনদেবের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা রাজনৈতিক দলই নির্ধারণ করে, কয়েকজন বিধায়কের সমর্থন নয়। অন্যদিকে স্পিকারের পক্ষে দাবি করা হয়, স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় বিরোধী দলনেতার পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই দায়িত্ব পালন করবেন।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৮