'লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করব না, এমনকি মার্কিন সরকার আহ্বান জানালেও'
দখলদার বাহিনী বহু বছর লেবাননে থাকবে: ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী
-
খলদার ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বি. স্মোতরিচ
পার্সটুডে: দখলদার ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বি. স্মোতরিচ (Bezalel Smotrich) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের দাবি জানানো সত্ত্বেও ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী লেবাননে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
সাপ্তাহিক ছুটির সময় প্রকাশিত একটি ইসরায়েলি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্মোটরিচকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কি বছরের পর বছর লেবাননে অবস্থান করবে?
জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ। এবং আমি এটি এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বলছি, যিনি বর্তমানে আগামী এক দশকের জন্য সেনাবাহিনীর বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।”
তাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়, ইসরায়েলের কি লেবাননে সামরিক চৌকি ও ঘাঁটি স্থাপন করা উচিত?
তিনি উত্তর দেন, “সবকিছুই, অবশ্যই।”
চরমপন্থী এই মন্ত্রী আরও বলেছে, “তবে অবশ্যই, যতক্ষণ না হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হচ্ছে, আমরা এক মিলিমিটারও সরে যাব না। এটি প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এবং আমার অবস্থান। আমরা এই নীতিতে অটল থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
স্মোতরিচ দাবি করেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি স্পষ্টভাবে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায়, তবুও ইসরায়েল লেবানন থেকে তাদের বাহিনী সরিয়ে নেবে না।
তিনি বলেন, তার ধারণা এমন কোনো মার্কিন দাবি আসবে না, কারণ “তারা আমাদের লাল রেখাগুলো বোঝে।”
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে টানাপোড়েন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিআমিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সম্পর্ক ৮ এপ্রিল থেকে ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। ওই দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অবসান ঘটায়।
ট্রাম্প লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এসব হামলা ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা
১৭ জুন ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলার স্থায়ী অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়।
১৪ দফার এই চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এর পরও ইসরায়েল লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে। সেখানে তারা তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” নামে একটি সামরিক বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করেছে, যাকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিতর্কিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের দাবি
সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যম এক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি ইসরায়েলকে লেবাননে নতুন হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হবেন।
তার ভাষায়, “ইসরায়েল আমাকে অনেক সম্মান করে,” এবং ইরান-সংক্রান্ত তার পূর্ববর্তী নীতির কারণে তেল আবিব তার পরামর্শকে গুরুত্ব দেয় বলে তিনি মনে করেন।#
পার্স টুডে/এমএএইচ/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।