মস্কো ও আশপাশের কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ
মস্কো-মুখি ইউক্রেনের ৮৪ ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: মেয়র
-
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি এলাকার দৃশ্য
পার্সটুডে: মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবাইনিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানী মস্কোর দিকে আসা ৮৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
মস্কোর এই কর্মকর্তা স্থানীয় সময় রাত ৩টা (গ্রিনউইচ সময় ০০:০০) থেকে টেলিগ্রামে একাধিক পোস্টে জানান যে, রাতভর মস্কোর দিকে অগ্রসর হওয়া ইউক্রেনীয় মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে নামিয়েছে।
হামলার সময় মস্কো অঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে।
কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর দেয়নি। সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে লিখেছেন:
“জরুরি সেবা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার স্থানগুলোতে কাজ করছেন।”
ড্রোন হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি
২০২২ সাল থেকে চলমান সংঘাতের মধ্যে মস্কো এবং রাশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনা ক্রমশ বেড়েছে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেছিলেন যে, কিয়েভ উন্নত সংস্করণের ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়।
পুতিনের বাসভবনেও হামলার চেষ্টা
এর আগে রাশিয়া দাবি করেছিল যে ইউক্রেন ৯১টি ড্রোন ব্যবহার করে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নোভগোরোদ অঞ্চলের বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেছিল।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধ ও সেনা সংকট
রাশিয়া ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে তাদের তথাকথিত “বিশেষ সামরিক অভিযান” শুরু করে। মস্কোর দাবি, রুশ সীমান্তের দিকে NATO-এর সম্প্রসারণ ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই অভিযান শুরু হয়েছিল।
পশ্চিমা গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশ হাজার ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য বাহিনী ত্যাগ করেছেন।
খবরে বলা হয়, প্রায় ২ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা অনুমতি ছাড়াই তাদের ইউনিট ছেড়ে চলে গেছেন, যার ফলে কিয়েভের নেতৃত্ব গুরুতর জনবল নিয়োগ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
সেনাবাহিনী ত্যাগকারী অনেক সদস্য নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা, চরম ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ এবং নতুন সেনা নিয়োগে কখনও কখনও ব্যবহৃত কঠোর বা সহিংস পদ্ধতিকে এই ব্যাপক পলায়নের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর এই কঠিন পরিস্থিতি কিয়েভের দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং শেষ পর্যন্ত মস্কোর সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।