স্বাগত জানাল পাকিস্তান
প্রধান মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গড়ার ইরানি প্রস্তাব
-
ইরানের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনুররেজা
পার্সটুডে: ইসলামী ইরান প্রধান কয়েকটি মুসলিম দেশকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে, ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবেলা ও অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অপরিহার্য।
ইরানের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনুররেজা এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফের মধ্যে এক টেলিফোন আলাপের সময় প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। ইরানি মন্ত্রী সাম্প্রতিক একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সামরিক সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আলাপ শুরু করেন এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় ইরানের প্রতি সমর্থন ও সংহতির জন্য ইসলামাবাদকে ধন্যবাদ জানান।
ইবনুররেজা আঞ্চলিক ঘটনাবলিতে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন, বিশেষ করে ইরানের ওপর হামলার নিন্দা এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তেহরানের প্রতি সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, কঠিন সময়ে মিত্র দেশগুলোর দেখানো সমর্থন ইরান সরকার ও জনগণ কখনো ভুলবে না।
আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সাম্প্রতিক বোঝাপড়া সহজতর করার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য ইরানি মন্ত্রী পাকিস্তান সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসাও করেছেন। একই সাথে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও তেহরান সতর্ক রয়েছে এবং এই চুক্তির কোনো ধরনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে ইবনুররেজা যুক্তি দেন যে, এই অঞ্চলে চলমান অস্থিতিশীলতা ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা করছে এবং তিনি 'ইসরায়েলি আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদী নীতির' মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোকে একটি ঐক্যবদ্ধ পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানান। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে, তিনি ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর এবং অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে একটি “ইসলামী বিশ্বের আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয়” প্রতিষ্ঠার তেহরানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইরানি মন্ত্রীর মতে, এই উদ্যোগটি উন্নত নিরাপত্তা সমন্বয়, আঞ্চলিক সংলাপ এবং ইসলামী বিশ্বের মুখোমুখি হওয়া অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য একটি মঞ্চ প্রদান করবে। তিনি এই প্রস্তাবের বিষয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করতে ইরানের প্রস্তুতির কথাও ঘোষণা করেছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘সাম্প্রতিক হামলার মুখে ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার’ প্রশংসা করে বলেছেন, দেশটির প্রতিক্রিয়া সংকল্প ও জাতীয় ঐক্য তুলে ধরেছে। তিনি আরও বলেছেন, ইরানি জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর দেখানো এই প্রতিরোধ আঞ্চলিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খাজা মুহাম্মদ আসিফ ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তানের জনগণ ইরানি জাতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং কঠিন সময়ে ধারাবাহিকভাবে ইরানকে সমর্থন করে এসেছে।
একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য তেহরানের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানি মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। তিনি বলেছেন, এই ধরনের সহযোগিতা আগ্রাসন প্রতিরোধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালীকরণ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
আসিফ গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডেরও নিন্দা করেছেন এবং সেখানকার পরিস্থিতিকে এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুতর মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে চলমান সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইসলামী বিশ্বের বিভিন্ন অংশে শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা ব্যবস্থার জন্য ক্রমবর্ধমান আহ্বানেরই প্রতিফলন ঘটেছে এই আলোচনায়। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।