'হায় হোসেন’ মাতমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিল
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160748-'হায়_হোসেন’_মাতমে_ঢাকা_ও_চট্টগ্রামে_পবিত্র_আশুরার_তাজিয়া_মিছিল
'হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম ও কারবালার শোকগাঁথা স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(last modified 2026-06-26T09:48:49+00:00 )
জুন ২৬, ২০২৬ ১৫:৪৩ Asia/Dhaka
  • ঢাকায় আশুরার তাজিয়া মিছিল
    ঢাকায় আশুরার তাজিয়া মিছিল

'হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম ও কারবালার শোকগাঁথা স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ (শুক্রবার) সকালে উভয় নগরীতে এই বিশাল শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়। শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু কালো পোশাক পরে, খালি পায়ে এবং মাথায় শোকের ফিতা বেঁধে মিছিলে অংশ নেন।

রাজধানী ঢাকার চিত্র:

রাজধানীতে আশুরার মূল মিছিলটি শুক্রবার ভোর থেকেই পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে হোসেনী দালানের উত্তর গেট থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলটি বের করা হয়।

ঢাকায় আশুরার তাজিয়া মিছিল

মিছিলের অগ্রভাগে ছিল কালো ব্যানার, পাঞ্জা, বেহেশতি নিশান, প্রতীকী দুলদুল ঘোড়া, খুনি ঘোড়া এবং একটি মূল তাজিয়া। মিছিল শুরুর আগে অনেক ভক্তকে প্রতীকী দুলদুল ঘোড়ার পায়ে দুধ ঢেলে সেই দুধ শরীরে ও মুখে মাখতে দেখা যায়। এমনকি অনেক মা-বাবা তাদের শিশুদের শরীরেও দুধ মাখিয়ে মানত পূরণ করেন। মিছিলটি হোসেনী দালান রোড, বকশীবাজার, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড, লালবাগ চৌরাস্তা, আজিমপুর, নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব ও ধানমন্ডি হয়ে সাত মসজিদ রোডের অস্থায়ী কারবালায় গিয়ে শেষ হয়।

হোসেনী দালান ইমামবাড়া মহররম মিছিল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ বাকের রেজা মাজলুম কারবালার গুরুত্ব স্মরণ করে বলেন, “কারবালার প্রান্তরের ঘটনা মুসলিম জাতি কখনো ভুলতে পারবে না। কারবালা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়। একজন মুসলিম হিসেবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণ করাই আমাদের দায়িত্ব।”

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চিত্র:

এদিকে, ভাবগম্ভীর পরিবেশে চট্টগ্রামে ‘শিয়া ইমামিয়া ইসনা আশারা মুমিনবৃন্দ’র উদ্যোগে শোক মিছিল বের হয়। সকালে নগরের সদরঘাট ইমাম বাড়ি থেকে মাওলানা আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে এই মিছিলটি যাত্রা শুরু করে। মিছিলে অংশ নেওয়া যুবকেরা হৃদয়গ্রাহী কণ্ঠে ‘আখেরি সালাম লও ওহে নানাজান, তোমারি হোসেন যায় কারবালা ময়দান’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় শোকসঙ্গীত পরিবেশন করে মাতম করেন। প্রচণ্ড গরমে পিপাসার্ত পথচারীদের মধ্যে যুবকদের শরবত বিতরণ করতে দেখা যায়। মিছিলটি কালীবাড়ি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, কোতোয়ালী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমাম বাড়িতে ফিরে যায়।

চট্টগ্রামে আশুরার তাজিয়া মিছিল

মিছিলে অংশ নেওয়া এক আবেগাপ্লুত বাবা তাঁর কাঁধে থাকা ছোট্ট শিশুর হাতে কালো পতাকা তুলে দিয়ে বলেন, “ইয়াজিদ বাহিনীর হাত থেকে সেদিন ছয় মাসের শিশুও রেহাই পায়নি। সেই শোকস্মৃতি বুকে ধারণ করেই আমার সন্তানকে কারবালার জুলুসে নিয়ে এসেছি।”

মিছিল শেষে মাওলানা আমজাদ হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইমাম হোসেন মাথা দিয়েছেন, কিন্তু হাত দেননি, জালেমের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। কারবালার শিক্ষা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন আহ্বান।” তিনি বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানান এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি ও ধিক্কার জানান।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

উভয় মহানগরীতেই তাজিয়া মিছিল নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মিছিলের সামনে ও পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়, যার ফলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে আশুরার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৬