কালো পোশাকে, চোখে অশ্রু: ইরানসহ বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের আশুরা পালন
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i160720-কালো_পোশাকে_চোখে_অশ্রু_ইরানসহ_বিশ্বজুড়ে_লাখো_মানুষের_আশুরা_পালন
কালো পোশাকে সজ্জিত লাখো শোকাহত মানুষ আশুরা পালন করছেন। এ দিনটি শিয়া মুসলমানদের তৃতীয় ইমাম এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতবার্ষিকী। কারবালার মরুভূমিতে তাঁর আত্মত্যাগ যুগে যুগে জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে রয়েছে।
(last modified 2026-06-25T13:10:22+00:00 )
জুন ২৫, ২০২৬ ১৮:৩২ Asia/Dhaka
  • কালো পোশাকে, চোখে অশ্রু: ইরানসহ বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের আশুরা পালন

কালো পোশাকে সজ্জিত লাখো শোকাহত মানুষ আশুরা পালন করছেন। এ দিনটি শিয়া মুসলমানদের তৃতীয় ইমাম এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতবার্ষিকী। কারবালার মরুভূমিতে তাঁর আত্মত্যাগ যুগে যুগে জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে রয়েছে।

চন্দ্র মাস মহররমের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরা, এ বছর ইরানে বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শোকাহত মানুষের বিশাল সমাবেশে মাতম, বুকে আঘাত করে শোক প্রকাশ, হৃদয়স্পর্শী শোকগাথা শ্রবণ এবং কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে অশ্রুসিক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত সেই ঐতিহাসিক দিনে ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর ৭২ জন বিশ্বস্ত সঙ্গীকে নিয়ে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে সংগ্রাম করতে গিয়ে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের কারবালায় উমাইয়া শাসক ইয়াজিদের হাজারো সৈন্যের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেন এবং শাহাদাত বরণ করেন।

ইরানের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দানশীল ব্যক্তিরা শোকপালনকারীদের এবং দরিদ্র মানুষের মধ্যে মানতের খাবার, যা সাধারণভাবে ‘নাজরি’ নামে পরিচিত, বিতরণ করেছেন। এই ঐতিহ্য ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রচারিত উদারতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংহতির চেতনাকে তুলে ধরে।

দেশজুড়ে মাতমের ছন্দময় ধ্বনি এবং শোকগাথার করুণ সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। লাখো মানুষ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করেছেন।

ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের জন্য এ বছরের আশুরা আরও বেদনাবিধুর বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এটি এমন এক মহররম, যা ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাতের পর প্রথমবার পালিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের সময় তিনি নিহত হন। ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা হামলায় দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাসহ হাজারো বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। মহররমের প্রথম দশ দিনের শোকানুষ্ঠান আশুরার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।

আশুরার আগের দিন, যা তাসুয়া নামে পরিচিত, শোকপালনকারীরা হযরত আব্বাস ইবনে আলী (আ.)-কে স্মরণ করেন। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সৎভাই। শত্রু বাহিনীর অবরোধের কারণে কয়েক দিন ধরে পানিবঞ্চিত নারী ও শিশুদের জন্য পানি আনতে গিয়ে তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আগে শাহাদাত বরণ করেন।

বিশ্বজুড়ে শিয়া মুসলমানরা আশুরা উপলক্ষে শোকানুষ্ঠান পালন করেন। একই সঙ্গে ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো জিয়ারতকারী ইরাকের পবিত্র শহর কারবালায় যান, যেখানে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাজার অবস্থিত। সেখানে তারা আশুরা উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মহররমের এসব অনুষ্ঠান কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়; বরং সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার চিরন্তন সংগ্রামের প্রতীক। এগুলো মানবজাতির জুলুম, নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিরোধের চেতনাকে ধারণ করে—যে আদর্শের জন্য ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।#

পার্সটুডে/এমবিএ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যা