ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160794-ইরানি_ক্ষেপণাস্ত্রে_মার্কিন_ঘাঁটিগুলোর_ক্ষয়ক্ষতি_সম্পর্কে_ওয়াল_স্ট্রিট_জার্নালের_প্রতিবেদন
পার্সটুডে: মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছে: “ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি ধ্বংস করল এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত হিসাব বদলে দিল?” প্রতিবেদনে প্রকাশিত সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিটি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়।
(last modified 2026-06-27T10:49:12+00:00 )
জুন ২৭, ২০২৬ ১৬:২৭ Asia/Dhaka
  • ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ
    ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ

পার্সটুডে: মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছে: “ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌঘাঁটি ধ্বংস করল এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত হিসাব বদলে দিল?” প্রতিবেদনে প্রকাশিত সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিটি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়।

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর একাধিকবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সঙ্গে কথা বলা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। এই হামলায় ঘাঁটির কমান্ড সদরদপ্তর, অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ভবন এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস হয়ে যায়। তবে এ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন নিরবতা বজায় রেখেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাঁটিটি ছিল এমন একমাত্র স্থাপনা, যা কার্যত “অঞ্চলে আমেরিকার একটি ছোট শহর” হিসেবে পরিচালিত হতো। দীর্ঘদিন সমুদ্রে দায়িত্ব পালন শেষে মার্কিন নাবিকরা বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য এই ঘাঁটিতে আসতেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাহরাইনের এই ঘাঁটি এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতির পুরো কৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেনাবাহিনীর আরেকজন অবগত কর্মকর্তার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত ও সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে ঘাঁটিগুলোকে আরও দূরবর্তী এলাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত অবস্থানের পরিবর্তন এবং অঞ্চল থেকে তাদের ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

এছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়া কিছু স্থাপনা হয়তো আর পুনর্নির্মাণই করা হবে না। মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এতটাই ব্যাপক যে পেন্টাগন এ বিষয়ে কংগ্রেসে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতেও অনাগ্রহী। এতে কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) অনুমান করেছে যে, এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন তথা চার হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ দশমিক ২ বিলিয়ন থেকে ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তথা ২৫০ কোটি ডলার থেকে ৫১০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলার প্রথম দফায় AN/GSC-52B মডেলের দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং একটি যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়। CSIS-এর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত প্রতিটি টার্মিনালের মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ডলার।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক উপ-কমান্ডার ড. রাভি চৌধুরী বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের স্থাপনাগুলো রক্ষা করার; কিন্তু যেসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা-স্তরগুলো ভেদ করে প্রবেশ করেছিল, সেগুলো আমাদের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।”#
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।