যুক্তরাষ্ট্রের গাজা-পুনর্গঠন পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের শর্ত নেই: প্রতিবেদন
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160914-যুক্তরাষ্ট্রের_গাজা_পুনর্গঠন_পরিকল্পনায়_হামাসের_নিরস্ত্রীকরণের_শর্ত_নেই_প্রতিবেদন
পার্সটুডে: একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে একটি নথি পাঠিয়েছে, যেখানে হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
(last modified 2026-06-30T13:25:35+00:00 )
জুন ৩০, ২০২৬ ১৯:০৪ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ধ্বংস হয়ে-যাওয়া  মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি দৃশ্য, ২০২৫, ২৬ ডিসেম্বর (ফাইল ছবি)
    ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ধ্বংস হয়ে-যাওয়া মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি দৃশ্য, ২০২৫, ২৬ ডিসেম্বর (ফাইল ছবি)

পার্সটুডে: একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে একটি নথি পাঠিয়েছে, যেখানে হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশন জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের লিখিত সম্মতি চাইছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নথিটি গাজা-পরবর্তী সময়ের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের আগ্রহের প্রতিফলন, যার লক্ষ্য নতুন করে যুদ্ধ এড়িয়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া।

মঙ্গলবার পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইহুদিবাদী ইসরায়েল—কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকাজুড়ে বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনার অনুমতি দিতে হবে। এর মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য জরুরি সেবা পুনঃস্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এসব প্রকল্প ঠিক কোন এলাকায় বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

এছাড়া, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ হামাস-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের পিস কাউন্সিল পরিচালিত অঞ্চলে স্থানান্তরের কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় একটি টেকনোক্র্যাট সরকার (বিশেষজ্ঞ-নেতৃত্বাধীন প্রশাসন)-এর সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা, একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণ এবং ইউরোপীয় হাসপাতাল পুনর্নির্মাণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া এবং হামাস-নিয়ন্ত্রিত এলাকা অতিক্রম করে হাসপাতালের সঙ্গে একটি প্রবেশপথ (অ্যাকসেস করিডর) তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল গাজা-সংক্রান্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর-রাজস্ব পিস কাউন্সিলের কাছে হস্তান্তর করবে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে টেকনোক্র্যাট সরকারকে গাজার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি কাজে গাজার ভেতরে ও বাইরে অবাধে চলাচল করতে পারবেন। এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট চালু, জ্বালানি বিতরণ সম্প্রসারণ এবং বর্তমানে গাজায় অনুপস্থিত চতুর্থ প্রজন্মের (৪জি) মোবাইল সেবা চালুর ব্যবস্থাও থাকবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো “কর ও প্রশাসনিক ফি আদায়ে হামাসের সক্ষমতা কমিয়ে আনা।”

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, যারা “অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার করবে,” তাদের জন্য শর্তসাপেক্ষ সাধারণ ক্ষমার (অ্যামনেস্টি) ব্যবস্থা রাখা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে, যাকে সহায়তা করবে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি বেসামরিক নিরাপত্তা বাহিনী।

তবে একই সঙ্গে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হামাস নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান না মানলে ইসরায়েল 'তার দৃষ্টিতে প্রয়োজনীয়' নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করবে।

ইসরায়েলি সম্প্রচার-মাধ্যমটির মতে, পুরো নথির মূল বার্তা হলো—ওয়াশিংটন আর গাজায় পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। বরং হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করলেও গাজায় একটি বিকল্প প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে চায়।#
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/৩০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।