হাইফা তেল শোধনাগারের ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি: ইসরায়েলি নথি:
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160976-হাইফা_তেল_শোধনাগারের_ক্ষয়ক্ষতি_প্রকাশিত_তথ্যের_চেয়ে_অনেক_বেশি_ইসরায়েলি_নথি
পার্সটুডে: ইহুদিবাদী ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর হাতে আসা একটি সরকারি নথিতে প্রকাশ করা হয়েছে যে, হাইফা উপসাগরে অবস্থিত বাজান (Bazan) পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সরকারিভাবে ঘোষিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি। নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এই কমপ্লেক্সের পূর্ণ পুনর্বাসন বা মেরামত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।
(last modified 2026-07-02T14:30:53+00:00 )
জুলাই ০২, ২০২৬ ২০:১৫ Asia/Dhaka
  • ক্ষতিগ্রস্ত হাইফা তেল শোধনাগার
    ক্ষতিগ্রস্ত হাইফা তেল শোধনাগার

পার্সটুডে: ইহুদিবাদী ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর হাতে আসা একটি সরকারি নথিতে প্রকাশ করা হয়েছে যে, হাইফা উপসাগরে অবস্থিত বাজান (Bazan) পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সরকারিভাবে ঘোষিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি। নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের আগে এই কমপ্লেক্সের পূর্ণ পুনর্বাসন বা মেরামত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমপ্লেক্সটি ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। প্রথম হামলাটি হয় ২০২৫ সালের জুন মাসের যুদ্ধের সময় এবং দ্বিতীয়টি গত ফেব্রুয়ারিতে। ২০২৫ সালের জুনের হামলাটি ছিল সবচেয়ে বিধ্বংসী। এতে কমপ্লেক্সের তিনজন কর্মী নিহত হয় এবং প্রধান বিদ্যুৎ-কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব তেল শোধন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় বাজান কোম্পানি তাদের ক্ষতির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে বলে অনুমান করেছিল।

দ্বিতীয় হামলাটি দুই ধাপে সংঘটিত হয়। প্রথম ধাপে একটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কমপ্লেক্সে আঘাত হানে এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের একটি সংরক্ষণ ট্যাংকের ছাদে আঘাত করে।

পুনর্বাসনে লাগবে কয়েক বছর

হামলার পর বাজান কোম্পানি দাবি করেছিল যে ক্ষয়ক্ষতি “উল্লেখযোগ্য নয়” এবং উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে। একইভাবে ইসরায়েলের জ্বালানি-মন্ত্রী এলি কোহেনও বলেছিলেন, হামলায় উৎপাদন স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং জ্বালানি সরবরাহেও কোনও প্রভাব পড়বে না।

কিন্তু পুনর্বাসনের জন্য পরিকল্পনা ও নির্মাণসংক্রান্ত একটি খসড়া আদেশের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত সরকারি নথিতে দেখা যায়, ক্ষয়ক্ষতি শুধু গ্যাস টারবাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে বাষ্প উৎপাদনকারী বয়লার, বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং একাধিক সহায়ক পরিচালন ব্যবস্থা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১২ হাজার ৭০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণ ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেটি আর মেরামতযোগ্য নয়। ফলে এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ নতুন একটি ট্যাংক নির্মাণ করতে হবে।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণ এলাকার পরিমাণ প্রথম হামলার পর অনুমোদিত এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা কমপ্লেক্সে প্রকৃত ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা তুলে ধরছে।

সরকারি এই নথিতে আরও স্বীকার করা হয়েছে যে, ইরানের হামলার ফলে জ্বালানি সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খসড়া আদেশে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত তেল সংরক্ষণ ট্যাংকটি “বাজারের নির্ধারিত মান অনুযায়ী পেট্রোল উৎপাদন এবং ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করার সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।” এই বক্তব্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আগের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পুরো কমপ্লেক্সের পুনর্বাসন কাজ ২০২৮ সালের আগে শেষ হবে না। অথচ ইসরায়েলি শাসক-চক্রের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে পুরো কমপ্লেক্সটি সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।

‘কৌশলগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’

এ প্রসঙ্গে হাইফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাভ বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি “জাগরণী বার্তা” হওয়া উচিত। তিনি বাজান কমপ্লেক্সকে হাইফা ও আশপাশের কয়েক লাখ বাসিন্দার জন্য একটি “কৌশলগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা” হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছে যে, জনবহুল এলাকার মধ্যে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্রীভূত করে রাখলে সেগুলো যেকোনো সামরিক সংঘাতে প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তাই যেসব স্থাপনা অদূর ভবিষ্যতে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো পুনর্নির্মাণে বছরের পর বছর ব্যয় না করে দ্রুত পুরো কমপ্লেক্স সরিয়ে নিতে তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বাজান কমপ্লেক্স ইসরায়েলের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র। এখানে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, রান্নার গ্যাস, বিটুমিনসহ বিভিন্ন পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করা হয়। এছাড়া এই কমপ্লেক্সের আওতায় কারমেল ওলেফিনস এবং গাদিভ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজসহ একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালায়। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/০২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।