সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানিদের নতুন কৌশল ও সাফল্যের রহস্য
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161516-সাম্প্রতিক_ক্ষেপণাস্ত্র_হামলায়_ইরানিদের_নতুন_কৌশল_ও_সাফল্যের_রহস্য
পার্সটুডে: জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক আল-সালতি (Muwaffaq Al-Salti) ঘাঁটিতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর, এই ব্যর্থতার কারণ নিয়ে মার্কিন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
জুলাই ২০, ২০২৬ ২০:১৫ Asia/Dhaka
  • 'ইরান আরও বেশি গতি, পাল্লা এবং ভারী ওয়ারহেডযুক্ত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে'
    'ইরান আরও বেশি গতি, পাল্লা এবং ভারী ওয়ারহেডযুক্ত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে'

পার্সটুডে: জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক আল-সালতি (Muwaffaq Al-Salti) ঘাঁটিতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর, এই ব্যর্থতার কারণ নিয়ে মার্কিন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আঞ্চলিক যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কৌশলগত পরিবর্তন প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।

দ্রুতগতিতে পরিচালিত ‘নাসর-২’ অভিযানে অঞ্চলের একাধিক দেশে অবস্থিত প্রতিপক্ষের বহু সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সেই বক্তব্যের জবাব, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইরানের ৯৮ শতাংশ সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে শুধু ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাই নয়, এসব হামলায় ব্যবহৃত নতুন কৌশলও যুদ্ধের নতুন এক অধ্যায় উন্মোচন করেছে, যা মার্কিন পক্ষকে বিভ্রান্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে লিখেছে যে, ইরান মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। একই সময়ে, এক মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমস-কে জানান, ইরানের হামলার কৌশলগত পরিবর্তনের কারণেই জর্ডানে মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছে।

কী ঘটছে?

পুরো অঞ্চলে, বিশেষ করে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা—যেখানে অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে—এই ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে মার্কিন গণমাধ্যমকে তৎপর করে তুলেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যেগুলো অত্যন্ত উচ্চ গতিতে উড়তে সক্ষম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঠিক আগে উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে কৌশলগত গতিপথ পরিবর্তন (ম্যানুভার) করতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের ফলে সেগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার ও অতিক্রম করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, নাকি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র?

অন্যদিকে, এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, জর্ডান ও অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রধান কারণ ছিল বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে নিক্ষেপ করা।

তিনি নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেন, “ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি সামরিক ঘাঁটির দিকে একযোগে ছোড়া হয়েছিল। আমরা কয়েকটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়।”

তবে মার্কিন সেনাদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, যেদিন মুওয়াফফাক আল-সালতি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা নিহত হন, সেদিন অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। ফলে একই মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কৌশল তাদের অপ্রস্তুত করে দিয়েছিল।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক সাদুল্লাহ জারেই বলেন, “ইউরোপীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, ইরান আরও বেশি গতি, পাল্লা এবং ভারী ওয়ারহেডযুক্ত নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এটি প্রমাণ করে যে আমরা যুদ্ধের পরিস্থিতি পরিবর্তন করার সক্ষমতা অর্জন করেছি।”

বিভিন্ন প্রতিবেদন ও প্রকাশিত ভিডিও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান খাইবারশেকান, ফাতেহ-১১০, হাজ কাসেম এবং ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এগুলো এর আগেও মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হলেও, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে এবার সেগুলোতে কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত পরিবর্তন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেহদি মোহাম্মাদি মনে করেন, ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরনই একমাত্র কারণ নয়; বরং সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে ইরান প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়ার বা অতিক্রম করার নতুন পদ্ধতি আয়ত্ত করেছে।

তার মতে, হামলার কৌশল ও বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে ইরান শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে তুলেছে।

কিছু সামরিক বিশ্লেষকের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে পরিবর্তন, উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি ও নিক্ষেপ প্রক্রিয়ায় নতুন কৌশল, এবং বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের অপটিক্যাল নির্দেশনা ব্যবস্থা ব্যবহার—যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও জিপিএস জ্যামিং মোকাবিলায় সহায়ক—এসব মিলেই বর্তমান পর্যায়ে প্রতিপক্ষকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘নাসর-১’ অভিযানে, যা মাত্র এক দিনের মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল এবং বৈরুতের দাহিয়ায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, ইসরায়েলি সূত্রের দাবি অনুযায়ী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের হামলা যুদ্ধকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

সবশেষে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১২ দিনের ও ৪০ দিনের যুদ্ধ, পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির পরবর্তী বিভিন্ন সংঘর্ষ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সামরিক হামলার কৌশলের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। প্রতিবেদনের মতে, জর্ডানের আজরাকে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা সেই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।