ট্রাম্পের লেনদেন-কূটনীতি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথ দেখাতে পারবে না: ফরেন অ্যাফেয়ার্স
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161658-ট্রাম্পের_লেনদেন_কূটনীতি_পশ্চিম_এশিয়ায়_শান্তির_পথ_দেখাতে_পারবে_না_ফরেন_অ্যাফেয়ার্স
পার্সটুডে – সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের ব্যর্থতা পর্যালোচনা করে বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্বল্পমেয়াদি ও লেনদেনভিত্তিক চুক্তিনির্ভর কূটনীতি বিরোধের মূল কারণগুলো সমাধান না করায় তা শুধু পশ্চিম এশিয়ায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থই হয়নি, বরং যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের উত্থান এবং অঞ্চলটিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের চক্রে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।
(last modified 2026-07-25T08:45:23+00:00 )
জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:৩৭ Asia/Dhaka
  • ট্রাম্পের লেনদেনভিত্তিক কূটনীতি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথ দেখাতে পারবে না: ফরেন অ্যাফেয়ার্স
    ট্রাম্পের লেনদেনভিত্তিক কূটনীতি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথ দেখাতে পারবে না: ফরেন অ্যাফেয়ার্স

পার্সটুডে – সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের ব্যর্থতা পর্যালোচনা করে বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্বল্পমেয়াদি ও লেনদেনভিত্তিক চুক্তিনির্ভর কূটনীতি বিরোধের মূল কারণগুলো সমাধান না করায় তা শুধু পশ্চিম এশিয়ায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থই হয়নি, বরং যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের উত্থান এবং অঞ্চলটিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের চক্রে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স তাদের বিশ্লেষণে লিখেছে, জুন মাসে সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক বাণিজ্যও ব্যাহত হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার ব্যর্থতা শুরু থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল। কারণ, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্যগুলো ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। লেখকের মতে, এ ধরনের পদ্ধতিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স আরও লিখেছে, এর আগে গাজা যুদ্ধবিরতি এবং তথাকথিত **‘আব্রাহাম চুক্তি’**র ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। এসব চুক্তি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য স্বল্পমেয়াদি কিছু সাফল্য বয়ে আনলেও সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করতে পারেনি।

সাময়িকীটির মতে, যুদ্ধবিরতি বা বন্দি বিনিময়ের মতো সীমিত চুক্তি সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমাতে কার্যকর হতে পারে। কিন্তু যখন এগুলো কঠিন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠন এবং মৌলিক সমঝোতার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন শেষ পর্যন্ত সেগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া যুদ্ধবিরতি কেবল সংঘাতরত পক্ষগুলোর জন্য নতুন দফা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স আরও উল্লেখ করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ অঞ্চলটির বিভিন্ন সংকট পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। সাময়িকীটির ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ফ্রন্টে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর পারস্পরিক নিরাপত্তা-উদ্বেগের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে।

প্রতিবেদনটি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ইউরোপের অবস্থার তুলনা করে সতর্ক করেছে যে, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়া, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস—এসব মিলিয়ে এমন সংকটের জন্ম দিতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।

ফরেন অ্যাফেয়ার্স ট্রাম্প প্রশাসনের উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি নীতির কথাও উল্লেখ করে লিখেছে, এসব দেশের নেতারা মনে করেছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব বাড়াবে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে যে, এই ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ফারাক ছিল। আরব সরকারগুলো যুদ্ধ শুরুর পথে কোনো কার্যকর বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

সাময়িকীটি আরও সতর্ক করেছে যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভেঙে পড়ার ফলে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের পুনরায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা, তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রদের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি পর্যন্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে যদি হরমুজ প্রণালিতেও বিঘ্ন অব্যাহত থাকে, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষণের উপসংহারে ফরেন অ্যাফেয়ার্স বলেছে, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা কেবল একটি সর্বাত্মক ও ব্যাপক চুক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। এমন একটি চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা, আঞ্চলিক পর্যায়ে পারস্পরিক আগ্রাসন না করার সমঝোতা এবং আঞ্চলিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।#
 

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।