মমতার গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে তৃণমূলের বিক্ষোভ, নিরাপত্তার আশ্বাস শুভেন্দুর
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162086-মমতার_গাড়িতে_হামলার_প্রতিবাদে_তৃণমূলের_বিক্ষোভ_নিরাপত্তার_আশ্বাস_শুভেন্দুর
হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। ঘটনার প্রতিবাদে আজ (সোমবার) বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তৃণমূলের নেতারা। একই কর্মসূচিতে তৃণমূলের দুই শিবিরের নেতাদের পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তিন বিধায়ককেও দেখা যায়। এদিকে, মমতার নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
(last modified 2026-08-10T13:28:52+00:00 )
আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৯:১৭ Asia/Dhaka
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। ঘটনার প্রতিবাদে আজ (সোমবার) বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তৃণমূলের নেতারা। একই কর্মসূচিতে তৃণমূলের দুই শিবিরের নেতাদের পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তিন বিধায়ককেও দেখা যায়। এদিকে, মমতার নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

হালিশহরে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সূত্রপাত। চাঁদাবাজি ও মারামারির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বিরজুকে।  পরিবারের দাবি, জেলে দেখা করার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন।  পরে ভোররাতে লকআপে তাঁর মৃত্যু হয়।  পুলিশ হেফাজতে খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয় তাঁর পরিবার।

এই ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে হালিশহরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  সেখানে তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।  অভিযোগ, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, জল ও জুতো ছোড়া হয় এবং তাঁকে উদ্দেশ করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি এই হামলার সঙ্গে যুক্ত এবং বাংলা এখন গুন্ডাদের হাতে চলে যাচ্ছে।

এর প্রতিবাদেই সোমবার বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী অংশ।  শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষদের সঙ্গে হাতে পোস্টার নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায় ঋতব্রত শিবিরের তিন বিধায়ককেও।  তাঁরা হলেন খিদিরপুরের আবদুল খালেক মোল্লা, বসিরহাট উত্তরের তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিভাস সর্দার।

তৃণমূলের দুই শিবিরের নেতাদের একই কর্মসূচিতে দেখা যাওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় ঋতব্রত শিবিরে কোনও ভাঙনের ইঙ্গিত রয়েছে, নাকি দলের পুরনো নেত্রীর প্রতি সম্মান থেকেই তিন বিধায়ক প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

শুধু বিধানসভা চত্বরেই নয়, দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়েও মমতার গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের একাংশের নেতারা। কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, যুবনেত্রী উপাসনা চৌধুরী এবং যুব তৃণমূল সভাপতি অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই কর্মসূচি হয়।  পরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ জমায়েত সরিয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে।

শুভেন্দু অধিকারী

এদিকে, মমতার গাড়িতে হামলার পর তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সোমবার তাঁকে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত বিরজু কেওটের বাড়িতে গিয়ে সেখান থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কোথাও যাওয়ার আগে পুলিশকে নির্দিষ্ট সময়ে জানালে প্রশাসন তাঁর জন্য যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।  তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হালিশহরে যাওয়ার আগে পুলিশকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে জানালে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

মমতার উদ্দেশে শুভেন্দুর পরামর্শ, ভবিষ্যতে তিনি যেখানেই যাবেন, সময়মতো পুলিশকে যেন জানান। প্রয়োজনে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি বা অন্য কোনও পুলিশ কর্মকর্তাকেও জানানো যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।  প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও গাফিলতি ছিল না। পুলিশকে আগাম জানানোর সুযোগ না পাওয়ার কারণেই হালিশহরে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

হালিশহরের ঘটনা ঘিরে একদিকে যেমন তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে, অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থানও সামনে এসেছে।  একই সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের নেতাদের একসঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

পার্সটুডে/এমএআর/১০