ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কোর্সের ইসরায়েলি ক্যাডেট-পাইলট আত্মহত্যা করল ঘাঁটিতে
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162094-ফ্লাইট_প্রশিক্ষণ_কোর্সের_ইসরায়েলি_ক্যাডেট_পাইলট_আত্মহত্যা_করল_ঘাঁটিতে
পার্সটুডে: ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কোর্সে থাকা এক ক্যাডেট আত্মহত্যা করে মারা গেছে।
(last modified 2026-08-10T14:28:27+00:00 )
আগস্ট ১০, ২০২৬ ২০:১৩ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডের তেল আবিবের দক্ষিণে রেহোভোট শহরে এক সহযোদ্ধার কবরের পাশে শোকাহত এক ইসরায়েলি সেনা। (ছবি: এপি)
    ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডের তেল আবিবের দক্ষিণে রেহোভোট শহরে এক সহযোদ্ধার কবরের পাশে শোকাহত এক ইসরায়েলি সেনা। (ছবি: এপি)

পার্সটুডে: ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কোর্সে থাকা এক ক্যাডেট আত্মহত্যা করে মারা গেছে।

ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কোর্সে থাকা এক ক্যাডেট আত্মহত্যা করে মারা গেছেন।

হিব্রু ভাষার দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গতকাল রোববার ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর পাইলট প্রশিক্ষণরত ওই ক্যাডেটের মরদেহ দখলকৃত ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৫০ জন কর্মরত ইসরায়েলি সেনা আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। অবরুদ্ধ উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা ভয়াবহতার পর বহু সেনা গভীর মানসিক সংকটে ভুগছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৯ জুলাই হারেৎজ জানায়, চলতি বছর ১৭ জন ইসরায়েলি সেনা আত্মহত্যা করেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৪ এবং ২০২৩ সালে ১৭ জন; ২০২৩ সালের আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে সাতজন গাজা যুদ্ধের পর আত্মহত্যা করে।

পত্রিকাটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সামরিক পেশাজীবী—যেমন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীর—উল্লেখযোগ্য ঘাটতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পত্রিকাটি আরও বলেছে, চাকরি থেকে অবসর নেওয়া সেনা, রিজার্ভ সেনা এবং গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার ইউনিটের সদস্যদের সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সক্ষমতায় কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে মৃত সেনাদের মরদেহ শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত সদস্যরা গুরুতর মানসিক আঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

২০২৬ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েছে

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও দুই নারী ইসরায়েলি সেনা আত্মহত্যা করায় ২০২৬ সালে সামরিক বাহিনীতে আত্মহত্যার সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছেছে।

হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পুনর্বাসন বিভাগ প্রতি মাসে মানসিক আঘাতে ভোগা শত শত সেনাকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় নিচ্ছে। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গাজায় যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)-এ ভুগছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত ২৭ জুলাই জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওফাকিমে নিজের বাসভবনে এক রিজার্ভ সেনাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে বর্ণনা করেছে। ওই সেনা মৃত সেনাদের দেহাবশেষ শনাক্ত করার দায়িত্বে থাকা একটি ইউনিটের সদস্য ছিল।

সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৮৯৮ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং ৬,১৩৪ জন আহত হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করছে—এমন অভিযোগের কারণে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় নৃশংস অভিযান চালিয়ে আসছে। এতে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। অব্যাহত যুদ্ধ ও ইসরায়েলি অবরোধ অঞ্চলটিকে বিপর্যস্ত করেছে এবং সেখানে খাদ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। #
 

পার্সটুডে/এমএএইচ/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।