'আমেরিকার অর্থনৈতিক যুদ্ধ সব সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল'
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162400-'আমেরিকার_অর্থনৈতিক_যুদ্ধ_সব_সরকারের_বিরুদ্ধে_যুদ্ধ_ঘোষণার_শামিল'
পার্সটুডে: ইসলামী ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সব সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।
(last modified 2026-08-22T11:51:43+00:00 )
আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০৫ Asia/Dhaka
  • ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি

পার্সটুডে: ইসলামী ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সব সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “এই পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি হবে জাতীয় সার্বভৌমত্বের সম্পূর্ণ ক্ষয় এবং প্রকাশ্য ও পূর্ণাঙ্গ ঔপনিবেশিকতার বিপর্যয়কর প্রত্যাবর্তনের ভূমিকা তৈরি হওয়া।”

ইরনা-র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় লিখেছেন:

“ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা একটি দেশের বিরুদ্ধে অবৈধ ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ অব্যাহত রাখার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘের সব স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বহির্দেশীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা যায়।”

বাকায়ি আরও বলেছেন:

“কোনো সরকারেরই অধিকার নেই যে, বিদেশি ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দর—যেগুলো প্রত্যেকটিই নিজ নিজ দেশের একক সার্বভৌম এখতিয়ারের অধীন—তাদের তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করবে। আন্তর্জাতিক আইনে তৃতীয় পক্ষগুলোর ওপর একটি পক্ষের এ ধরনের দূরবর্তী নিষেধাজ্ঞা  চাপিয়ে দেয়ার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।”

তিনি বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমতার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে, যা জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ নম্বর ধারায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে এগুলো রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রথাগত নিষেধাজ্ঞাকেও লঙ্ঘন করে, যা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত নিকারাগুয়া মামলায় নিশ্চিত করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন:

“কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রকে তার বৈধ নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক ভীতি প্রদর্শন একটি অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড।”

তিনি আরও বলেন, “যখন এসব নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে এমন একটি সমুদ্র অবরোধ যুক্ত হয়, যা নিজেই আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ, তখন অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বকে অন্য কোনো শক্তির ইচ্ছা ও খেয়ালের ওপর নির্ভরশীল এবং সাময়িক বিষয়ে পরিণত করা হয়।”

বাকায়ি বলেন:

“এ ধরনের প্রকাশ্য ভীতি প্রদর্শনের কাছে নতি স্বীকার করলে কোনো রাষ্ট্রই সুরক্ষা বা দায়মুক্তি পাবে না। বরং এর অর্থ হবে বিদেশি সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অন্য দেশের ব্যাংক, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও বিমানবন্দরগুলোর বৈধ কর্মকাণ্ডের ওপর একটি বিদেশি পক্ষের কর্তৃত্ব স্বীকার করে নেওয়া।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি হবে জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে জাতীয় সার্বভৌমত্বের সম্পূর্ণ ক্ষয় এবং প্রকাশ্য ও পূর্ণাঙ্গ ঔপনিবেশিকতার বিপর্যয়কর প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হওয়া।” #
 

পার্সটুডে/এমএএইচ/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন