ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন কমান্ডারদের গোপন ভিন্নমত ফাঁস: ওয়াশিংটন পোস্ট
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162762-ইরান_যুদ্ধ_নিয়ে_মার্কিন_কমান্ডারদের_গোপন_ভিন্নমত_ফাঁস_ওয়াশিংটন_পোস্ট
পার্সটুডে: ​​​​​​​ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডারের আনুষ্ঠানিক আপত্তির তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর পেন্টাগন নীরবে একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে কয়েক দশকের গোপন সামরিক পরিকল্পনা-সংক্রান্ত নথি সরিয়ে নিয়েছে।
(last modified 2026-09-04T11:38:41+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬ ২০:৪৩ Asia/Dhaka
  • মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পেন্টাগন
    মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পেন্টাগন

পার্সটুডে: ​​​​​​​ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডারের আনুষ্ঠানিক আপত্তির তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর পেন্টাগন নীরবে একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে কয়েক দশকের গোপন সামরিক পরিকল্পনা-সংক্রান্ত নথি সরিয়ে নিয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিন ব্যক্তি ওয়াশিংটন পোস্ট-কে জানান, সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অর্ডার্স বুক (SDOB)-সংক্রান্ত ফাইলগুলো সিক্রেট ইন্টারনেট প্রোটোকল রাউটার নেটওয়ার্ক বা SIPRNet-এ পরিচালিত একটি অভ্যন্তরীণ পোর্টাল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই গোপন নেটওয়ার্কটি সাধারণত মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মীরা ব্যবহার করেন।

সিস্টেমটির সংবেদনশীল প্রকৃতির কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, নথিগুলো এখনো অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায় কি না, নাকি আরও সীমিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করা হয়েছে—তা স্পষ্ট নয়। SIPRNet “সিক্রেট” পর্যায়ের তথ্যের জন্য নির্ধারিত, আর “টপ সিক্রেট” পর্যায়ের তথ্য আরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাসম্পন্ন সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকে।

‘মিশনের নিরাপত্তা ও অপারেশনাল অখণ্ডতা’

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল নথিগুলোর প্রবেশাধিকার পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তিনি এমন পরিবর্তন ঘটার বিষয়টি অস্বীকারও করেননি।

ট্রাম্প প্রশাসনের পছন্দের নামকরণ অনুসারে প্রতিরক্ষা বিভাগকে “যুদ্ধ বিভাগ” উল্লেখ করে পারনেল বলেন:

“আমরা আগেও বলেছি, যুদ্ধ বিভাগ অভ্যন্তরীণ সামরিক কার্যক্রমের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া—যার মধ্যে সেক্রেটারি অব ওয়ার অর্ডার্স বুক (SWOB)-এর ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা বা প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত প্রটোকলও রয়েছে—সেগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করে না।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের সেনাসদস্যদের সাফল্যই সেক্রেটারি হেগসেথের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, মিশনের নিরাপত্তা ও অপারেশনাল অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে অপারেশনাল প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়ে কমান্ডারদের সতর্কবার্তা

SDOB মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বিভিন্ন ইউনিট ও অস্ত্র ব্যবস্থার অবস্থান এবং প্রাপ্যতা সম্পর্কে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। একই সঙ্গে এটি এমন একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কমান্ডাররা কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেও সেই নির্দেশের বিষয়ে তাদের আপত্তি বা দ্বিমত নথিভুক্ত করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি “নন-কনকারিং” বা আনুষ্ঠানিক অসম্মতি হিসেবে পরিচিত।

গত রবিবার ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল ও অ্যাডমিরাল হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখলে অন্য ক্ষেত্রগুলোতে গুরুতর ক্ষতি বা চাপ সৃষ্টি না করে তা আর পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

১৪ আগস্টের SDOB সংস্করণ সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর মতে, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে “নন-কনকার” বা অসম্মতি নথিভুক্ত করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ, সাউদার্ন কমান্ডের জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান, প্যাসিফিক কমান্ডের অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল কেনেথ এস. উইলসবাখ এবং ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভ কিছু ইউনিটের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও তারা সতর্ক করেছিলেন যে, এতে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে।

‘ভুল তথ্য’, তবে কোন অংশ ভুল তা অস্পষ্ট

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পারনেল দাবি করেছিলেন যে, সেনা মোতায়েনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো প্রেসিডেন্টের কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং সামরিক পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।

পরে তিনি প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশকে “ভুল” বলে প্রত্যাখ্যান করেন, তবে প্রতিবেদনের কোন নির্দিষ্ট অংশগুলো ভুল—তা উল্লেখ করেননি।

পারনেল ওয়াশিংটন পোস্ট-কে বলেন, “নন-কনকার হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। সেক্রেটারি নিয়মিতই এগুলো দেখেন। এভাবেই একটি প্রকৃত সামরিক বাহিনী পরিচালিত হয়। বিশ্বজুড়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত ভালো।”

ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও কৌশলগত উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাথমিক কয়েক সপ্তাহের অভিযানের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ। এ অবস্থায় মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরে যুদ্ধের আর্থিক ও সামরিক সরঞ্জামসংক্রান্ত ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যয় করছে, যার মধ্যে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে সামরিক কর্মী ও সরঞ্জামের ওপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ বজায় রাখতে গিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীও অতিরিক্ত চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।

কমান্ডারদের সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যায়, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বাহিনী ও সম্পদ নিয়োজিত রাখলে বিশ্বের অন্য অঞ্চলে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা বা নতুন কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তাদের রয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনায় সম্ভাব্য প্রভাব

SIPRNet থেকে SDOB সরিয়ে নেওয়ার ফলে এসব নথি দেখার সুযোগ থাকা সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

নথিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করতেন এমন একজন সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, আরও সীমিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন সিস্টেমে স্থানান্তর করা হলে “যাদের সরাসরি এসব নথিতে প্রবেশাধিকার রয়েছে, তাদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ সময়-সংবেদনশীল সামরিক সমন্বয়কে জটিল করে তুলতে পারে। কারণ বিভিন্ন কমান্ডের মধ্যে সেনা মোতায়েন পরিচালনা এবং সামরিক সম্পদ পুনর্বিন্যাসের সময় কমান্ডাররা নিয়মিত এসব নথি পর্যালোচনা করেন। ফলে এ ধরনের লজিস্টিক কাজ “নিশ্চিতভাবেই আরও কঠিন” হয়ে উঠতে পারে।

এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের অননুমোদিত তথ্য ফাঁস ঠেকানোর বৃহত্তর অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের মধ্যে সামরিক ও সরকারি কর্মীদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সমন জারি এবং একটি ঘটনায় ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। #

পার্সটুডে/এমএআর/০৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।