'ইরাকে ইরানি বিমানগুলোর ফ্লাইট পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বাগদাদ ও তেহরান আলোচনা করছে'
ইরাকে ইরানি ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে বাগদাদ'
-
ইরাকের পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ইরাকি এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমান ইরাকের বাগদাদে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে আছে। (ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম)
পার্সটুডে: ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরাকের কয়েকটি বিমানবন্দরকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে।
আজ শনিবার ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মিডিয়া ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতে, বিশেষ করে ইরানের বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর পরিচালিত বিমানসেবার ওপর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেয়া পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, নির্দিষ্ট কিছু ইরাকি বিমানবন্দরকে এসব নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিতে ইরাকি কর্মকর্তারা তাদের মার্কিন সমকক্ষদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এর ফলে মানবিক কারণে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ, শিক্ষার উদ্দেশ্যে যাতায়াত, ধর্মীয় সফর এবং বেসামরিক নাগরিকদের কল্যাণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “ইরাক সরকার যখন এই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য কাজ করছে, তখন তারা জোর দিয়ে বলছে যে সংকট অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে। সরকার সব পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে বর্তমান সংকটের অবসান ঘটাতে এমন সমাধানে পৌঁছানো যায়, যা এই অঞ্চলের দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে।”
৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তারা দাবি করে, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও দ্বিতীয় পর্যায়ের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার হতে পারে।
নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল ইরানের সঙ্গে এখনও ফ্লাইট পরিচালনাকারী সর্বশেষ ইরাকি বিমানবন্দর। তবে একটি সরকারি নির্দেশনার পর শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরটি ইরানের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে।
এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সুলায়মানিয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। কিরকুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের কোনো ফ্লাইট নেই।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন আল আরাবিয়াকে বলেছেন, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।
এদিকে, তেহরানে নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত ইয়াসের আল-হাজ্জাজ আল-আহাদ টিভিকে বলেছেন, ইরাকি বিমানবন্দরগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে সমাধান খুঁজে বের করতে ইরাক ও ইরান আলোচনা করছে।
ওদিকে ইরানের ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইরাকের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা।
ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি বলেছেন, ইরান ইরাকের “প্রতিবেশী, মিত্র ও বন্ধু”। তিনি বিমানবন্দর বন্ধের সিদ্ধান্তকে একটি বড় ভুল হিসেবে অভিহিত করে কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
হারাকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবার মহাসচিব আকরাম আল-কাবি শুক্রবার এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দুই মুসলিম প্রতিবেশী দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বিমান চলাচল পুনরায় চালু না হলে ইরাকি সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি ইরাকের বিভিন্ন বিমানবন্দরে দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ /২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।