বিশ্লেষণ | আবুধাবিতে নেতানিয়াহুর সফর নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163556-বিশ্লেষণ_আবুধাবিতে_নেতানিয়াহুর_সফর_নিয়ে_ইরানের_আনুষ্ঠানিক_প্রতিক্রিয়া
পার্সটুডে- গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবুধাবিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন সফর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
(last modified 2026-09-30T14:20:57+00:00 )
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৮:৫৮ Asia/Dhaka
  • নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর
    নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর

পার্সটুডে- গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবুধাবিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন সফর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর এই সফরকে উসকানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করে অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর উপস্থিতির অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে শিশুহত্যাকারী ও যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তার হাত লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত এবং তিনি আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি।

ইরানের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে তার আমিরাত সফরকে সাধারণ কূটনৈতিক সফর হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

রাজনৈতিক দিক থেকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিম এশিয়ার নাজুক পরিস্থিতি এবং ইরান ও অন্যান্য ইসলামি ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর সফরকে অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু আমিরাতের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি সৌদি আরব, বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, মরক্কো, কুয়েত, ওমান ও লিবিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন—এমন প্রতিবেদনও রয়েছে। ইরানের দৃষ্টিতে, এসব তৎপরতা ইরানবিরোধী একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের এই কঠোর প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, তেহরান আশঙ্কা করছে, নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর আবুধাবি ও তেলআবিবের মধ্যে সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।

ইরানের বিবৃতিতে একই সঙ্গে অঞ্চলটির অন্যান্য দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে এমন সহযোগিতায় না জড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশগুলোর প্রতি ইসরায়েলকে “ধ্বংসাত্মক উপস্থিতির সুযোগ না দেওয়া” এবং তাদের ভূখণ্ডকে “অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের মঞ্চে পরিণত হতে না দেওয়ার” আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই প্রতিক্রিয়ার ফলে ইরান-আমিরাত সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ইরান ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জন্য অঞ্চলটির যেসব দেশ তাকে সহযোগিতা বা আশ্রয় দেবে, তাদেরও দায়ী করার অবস্থান নিয়েছে।

আঞ্চলিক পর্যায়ে এই বিবৃতি পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরান নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইনি ও মানবিক অভিযোগগুলো সামনে এনে দখলদার ইসরায়েল এবং তার আঞ্চলিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর নিয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়াকে তেলআবিবের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিস্তারের বিরুদ্ধে তেহরানের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পরবর্তী পরিস্থিতিই এই কৌশলের ভবিষ্যৎ প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।#

পার্সটুডে/এসএ/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।