বিহারে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ, বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/india-i104316-বিহারে_মুসলিম_যুবককে_পিটিয়ে_পুড়িয়ে_হত্যার_অভিযোগ_বিশ্লেষকের_প্রতিক্রিয়া
ভারতে জেডিইউ-বিজেপি শাসিত বিহারে মুহাম্মাদ খলিল রিজভি (৩৫) নামে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে গরুর গোশত খাওয়া সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২ ১৯:২৯ Asia/Dhaka
  • মুহাম্মাদ খলিল রিজভি
    মুহাম্মাদ খলিল রিজভি

ভারতে জেডিইউ-বিজেপি শাসিত বিহারে মুহাম্মাদ খলিল রিজভি (৩৫) নামে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে গরুর গোশত খাওয়া সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে বিহারের সমস্তিপুর জেলার কল্যাণপুর থানা এলাকার বাসুদেবপুরের একটি পোলট্রি ফার্ম থেকে তাঁর আধপোড়া দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সম্পর্কে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘গণমাধ্যমে লেখা হচ্ছে গোরক্ষক, কিন্তু এই শব্দটা ভুল। এটার মধ্যে দিয়ে ওদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এরা কেউ গোরক্ষক নয়, এরা হল গো-সন্ত্রাসী। এরা যদি গোরক্ষক হতো তাহলে উত্তর প্রদেশে, বিহার, মধ্য প্রদেশে হাজার হাজার গরু প্লাস্টিক খেয়ে বা না খেয়ে মারা যেতো না। এরা যদি গোরক্ষক হতো তাহলে গরু ছেড়ে দিয়ে উত্তর প্রদেশে ফসলের খেত নষ্ট করত না, এরা নিজে গরু পালন করতেন। কোনও বিজেপি নেতাকে কী গরু পালন করতে দেখা গেছে?’  

ড. ইমানুল হক আরও বলেন, ‘গরু পালন করতেন বিহারের আরজেডি নেতা  লালুপ্রসাদ যাদব। সেজন্য তাকে গণমাধ্যমে একসময়ে উপহাস করা হয়েছে। এখন মিডিয়া এদের বলছে গোরক্ষক। আসলে এরা হচ্ছে গো-সন্ত্রাসী। এরা চাচ্ছে এমন একটা শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে যেখানে মুসলিম হলে, অপর ধর্মের হলে, দলিত হলে তাকে যেন গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা যায়। এটা হচ্ছে একটা (কেন্দ্রীয়) ফ্যাসিস্ট সরকার, বর্বর, অমানবিক সরকার। এই সরকারের পতন ঘটানো উচিত।’        

ড. ইমানুল হক

গণমাধ্যমে প্রকাশ, চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে হাত জড়ো করে এক যুবক বসে রয়েছেন মাটিতে। তার দিকে ধেয়ে আসছে গালিগালাজ আর বিভিন্ন প্রশ্ন। ‘খাসি, মুরগি থাকতে গরুর গোশত কেন খেয়েছিস? শুধু নিজে খেয়েছিস নাকি বাচ্চাদেরও খাইয়েছিস?  কিতাবে কী গরুর গোশত খাওয়ার কথা বলা হয়েছে’ ইত্যাদি। আতঙ্কিত যুবক কান মলে বার বার একই উত্তর দিচ্ছেন, আর খাব না কোনও দিন।  গণমাধ্যমের একাংশ বলছে, ওই  যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়েছে  স্বঘোষিত গো-রক্ষকেরা। অন্য একদলের দাবি, পিটিয়ে হত্যার পরে যুবকের দেহে  পেট্রল ঢেলে প্রথমে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে আধপোড়া দেহে লবন ঢেলে (যাতে দ্রুত পচন ধরে) তা মাটি চাপা দেওয়া হয়।

গত (মঙ্গলবার) রাতে বিহারের প্রধান বিরোধী দল ‘আরজেডি’ প্রধান তেজস্বী যাদব ওই ঘটনায় ‘জেডিইউ’ নেতা নীতীশ কুমার সরকারকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘বিহারের ‘এনডিএ’ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। গরুর নামে, একজন মুসলিম যুবক যিনি নিজে ‘জেডিইউ নেতা’ ছিলেন, তাকে পিটিয়ে, জীবন্ত পুড়িয়ে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। নীতীশজী, বিহারে প্রতিনিয়ত কেন এমন ঘটনা ঘটছে? মানুষ কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে?’ 

রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ‘বিহারে গরুর নামে বলি হলেন আরও একজন মানুষ। বিহার সরকার অপরাধী ও মাফিয়াদের কাছে আইনশৃঙ্খলা নিলাম করেছে। যে কোনো সময়ে, যে কোনো জায়গায়, কীভাবে, যে কোনো গুন্ডা যে কাউকে সাধারণভাবে হত্যা করছে। নীতীশ কুমার অপরাধের বিষয়ে  অপরাধমূলকভাবে চুপ করে আছেন।’  

হিন্দি গণমাধ্যম ‘আজতক’ সূত্রে প্রকাশ, সমস্তিপুর পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা হত্যার বিষয়টি এড়াতে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল করা যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।    

অন্যদিকে, পুলিশ সুপারকে উদ্ধৃত করে গতকাল (বিধবার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘অপ ইন্ডিয়া’ বলছে, মুহাম্মাদ খলিল আলমকে পাঁচজন মিলে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যার মধ্যে ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চলছে।পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের মধ্যে বিপুল ঝা নামে একজন স্বীকার করেছে সে আরও চারজন মিলে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে খলিলকে হত্যা করেছিল। এ বিষয়ে বিশেষ তদন্ত টিম (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।   

অন্যদিকে, গণমাধ্যমের একাংশ বলছে, মুহাম্মাদ খলিল চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল ঝা ও তার বন্ধুর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। কিন্তু বিপুল ও তার বন্ধুরা চাকরি না পেয়ে টাকা দাবি করতে শুরু করলে সে এড়িয়ে যেত। এরপর টাকা আদায়ের জন্য সবাই তাকে অপহরণ করে পিটিয়ে হত্যা করে। #      

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।