কাশ্মির ইস্যু
‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ই নয়, গুজরাট ফাইলসের বিষয়েও আলোচনা হোক: শিন্ডে
-
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে বিতর্কিত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমা সম্পর্কে বলেছেন, গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে একজন সাংবাদিকের লেখা একটি বইকে 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস'-এর মতো প্রচার করা উচিত।
আজ (শনিবার) এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইটে প্রকাশ, 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যান্য নেতাদের নিশানা করেন শিন্ডে। তিনি বলেন, বিবেক অগ্নিহোত্রীর লেখা ও পরিচালিত ছবিটি দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আমি ফিল্মটি (দ্য কাশ্মীর ফাইলস) দেখিনি কিন্তু অনেকেই এটা নিয়ে কথা বলছেন। তবে কাশ্মীর ফাইলসের আগে সাংবাদিক রানা আইয়ুবের গুজরাট ফাইলস (অ্যানাটমি অফ কভার-আপ) বইটিও রয়েছে।’
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে সোলাপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যরা কাশ্মীর ফাইলসের প্রচার করছেন, তাদের দ্য গুজরাট ফাইলসের সম্পর্কেও কথা বলা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘যে কোনও ঘটনাক্রমকে বিকৃত করা ভুল। এ ভাবে জনগণের আবেগকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা বিজেপির পুরনো কৌশল।’
'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' ইস্যুতে আজ (শনিবার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের 'ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ হাউজিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শামিমা খাতুন রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘'দ্য কাশ্মীর ফাইলস' সিনেমা নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে। সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীও মন্তব্য করেছেন। আমার মনে হয় সিনেমাটিতে একতরফাভাবে কিছু বিষয় দেখানো হয়েছে। এবং একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের সময়ে জম্মু-কাশ্মীরে রাজ্যপালের শাসন চলাকালীন সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় কাশ্মীরি জনগণের উপরে। এরফলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ এবং আরও অনেকে সেসময়ে প্রাণ হারান। কিছু মানুষকে নিজ বাসভুমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। যারা ওই হামলা চালিয়েছিল, তাদেরকে ধিক্কার জানাই। আমার মতে সন্ত্রাসীদের কোনও ধর্ম থাকে না। কোনও ধর্মই নিরীহ মানুষদের উপরে অত্যাচার করতে শেখায় না। কিন্তু ওই মুভিটিকে কেন্দ্র করে একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নীচু চোখে দেখা হচ্ছে। আমরা ভুলে যাচ্ছি যে, কাশ্মীর আমাদের দেশের একটা অংশ।’

শামিমা বলেন, ‘শিকারা’মুভি দেখলে বোঝা যাবে সেখানে হিন্দু-মুসলিমরা কত ভালোবাসার সঙ্গে জীবনযাপন করে। তারা ভাই-ভাই হয়ে তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে, একে অপরের পরিবার হয়ে বাস করছে। এটা হচ্ছে আমাদের কাশ্মীরের বৈশিষ্ট। শুধু কাশ্মীরের নয়, গোটা ভারতের একটা বৈশিষ্ট যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে, তারা ভালোবাসার সঙ্গে বাস করে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান হিসেবে তাদেরকে আমরা বিভাজিত করি না।’
শামিমা খাতুন 'দ্য কাশ্মীর ফাইলস'কে বিভিন্ন রাজ্যে করমুক্ত করার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘অনেক উচ্চ শ্রেণির মানুষজন এন্টারটেইনমেন্টের জন্য মুভি দেখতে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষজন গরীব। যদি আপনারা ভালো কিছু করতে চান তাদের জন্য করুন না। তাদের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যেসব সামগ্রী, সেসবে করমুক্ত করুন। কিন্তু তা না করে ওই ছবিকে করমুক্ত করে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? আমাদের বিভাজিত করতে চাচ্ছেন তো? আপনারা মুভির মধ্যদিয়ে অনেক প্রচারণা চালাতে চাচ্ছেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী। কিন্তু আপনারা বিভাজিত করতে পারবেন না।’
‘মানুষের মধ্যে বিষ না ছড়িয়ে, বিভাজিত না করে সব মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে বেঁধে রাখার চেষ্টা করুন, তাহলে আমাদের দেশ অনেক এগোবে, উন্নতি করবে বলেও মন্তব্য করেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ হাউজিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেশন’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শামিমা খাতুন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।