কাশ্মির ইস্যু
ইলহান ওমর: যার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সফর করেছেন। তার বহুলালোচিত ওই সফরের সফরের নিন্দা করেছে ভারত। আজ (বৃহস্পতিবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি একে ভারতীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
বিবিসি হিন্দি সূত্রে প্রকাশ, তিনি বলেছেন, ‘উনি জম্মু-কাশ্মীরের এমন একটি অংশ পরিদর্শন করেছেন যা বর্তমানে অবৈধভাবে পাকিস্তানের দখলে রয়েছে। কোনো রাজনীতিবিদ যদি তার সংকীর্ণ মানসিকতার রাজনীতি করতে চান তবে এটি তার কাজ হতে পারে কিন্তু এটি আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি একে নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেছনে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর গতকাল (বুধবার) পাঁচ দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছালে পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের আমেরিকান বিষয়ক মহাপরিচালক মালিক মুদাসসির টিপু তাকে স্বাগত জানান। ইলহান ওমর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং অন্যান্য সরকারী নেতাদের সাথে সাক্ষাত করেছেন।

পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর ইলহান ওমর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারের বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে কংগ্রেসের মধ্যে এবং বাইডেন প্রশাসনে যতটা কথা বলা দরকার ততটা হচ্ছে। এই সফর থেকে আমার আশা এটা যে এখন মানবাধিকার এবং যারা এর জন্য কাজ করছেন তাদের নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হবে। কাশ্মীরের প্রশ্নও এর সাথে জড়িত থাকবে।’
মার্কিন কংগ্রেসের ওই সদস্য এমন এক সময়ে পাকিস্তান সফর করছেন যখন সেদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্য থেকে নির্বাচিত ৩৯ বছর বয়সী ইলহান ওমর মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম মহিলার একজন যিনি প্রতিনিধি পরিষদে প্রবেশ করতে সমর্থ হয়েছেন৷ তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৬ সালে হিজাব পরিধানকারী ইলহান ওমর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গতবছর ইলহান ওমর মার্কিন কংগ্রেসে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন যা পাস হয়েছিল। হোয়াইট হাউসও ওই বিলকে সমর্থন করেছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বর্ণবাদ এবং ইসলামোফোবিয়া থেকে শুরু করে গাজা এবং ভারতের কাশ্মীরে বসবাসকারী মানুষের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার থাকেন।
২০১৯ সালের আগস্টে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করার পরে কারফিউ এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ করায় ইলহান তার একটি টুইটে অবিলম্বে যোগাযোগ পুনরায় চালু করার দাবি করেছিলেন। তিনি কাশ্মীরে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক নীতি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান এবং কাশ্মীরে উত্তেজনা কমানোর দাবিও জানিয়েছিলেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।