তীব্র আক্রমণ বিজেপি নেতা শমিক ভট্টাচার্যের
ভারতের সংবিধান, ইতিহাস পাল্টে দেওয়া হচ্ছে: মমতার অভিযোগ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির নাম না করে বলেছেন, আমরা দাঙ্গা চাই না, আমরা শান্তি চাই। আমরা দেশকে টুকরো করতে চাই না।
তিনি আজ (শনিবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে ঈদের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন। মমতা বলেন, ‘জীবন দেব কিন্তু দেশ ভাঙতে দেব না। গণতন্ত্র চলে গেলে সব চলে যাবে। এক বছর পরে দেশের ক্ষমতায় কে আসবে সেই নির্বাচন হবে। গণতন্ত্র চলে গেলে সব শেষ। আজ সংবিধান, ইতিহাস পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। যা খুশি তাই করছে। তারা ‘এনআরসি’ নিয়ে এসেছে। আমি তাদেরকে বলেছি যে আমি এটি করতে দেব না। আপনাদেরকে বলতে চাই, ‘আপনারা শান্ত থাকুন, কারো কথা শুনবেন না। আমাকে গাদ্দার পার্টির সাথেও লড়াই করতে হয়। এজেন্সির সাথেও আমাদের লড়াই করতে হয়। আমরা লড়াই করার জন্য তৈরি আছি। আমি আমার সাহসের জোরে তাদের মোকাবেলা করছি। আমি তাদের সামনে মাথা নত করতে রাজি নই।’
‘মানুষ তো তারাই যারা মানবিক। মানুষ তো তিনিই যিনি সবাইকে নিয়ে চলেন। দেশের নেতা তিনিই হন, যিনি গোটা দেশের নেতা। ভাঙচুর করে দেশের নেতা হওয়া যায় না। আল্লাহতায়ালার কাছে প্রার্থনা করব যাতে এদের দাদাগিরি বন্ধ হয়’ বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতা শমিক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিশানা করে বলেছেন, ‘এতবড় নির্লজ্জ তোষামোদ ১৯৪৬ সালের আগেও কোনোদিন পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে কোনও জাতীয় নেতা, জাতীয় দলের অবস্থান থেকে কোনও প্রাদেশিক নেতা নিজের অঞ্চল সম্পর্কে এ ধরণের বক্তব্য রাখেননি। এটা বিভাজনের রাজনীতির একটা চূড়ান্ত নিদর্শন!’
তিনি বলেন, ‘হিন্দি-বাংলায় বক্তব্য দিয়ে সারা দেশের সংখ্যালঘুদের কাছে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন জোটবদ্ধ হও, তৈরি হও। কোন সংবিধান বদল করা হয়েছে? এই দলকে যদি আরও ক্ষমতায় রেখে দেওয়া যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে যদি সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে না তোলা যায় তাহলে সর্বনাশ হবে। আবার পশ্চিমবঙ্গকে ভাগ করার রাস্তায় হাঁটছে’ বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা শমিক ভট্টাচার্য।
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমএআর/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।