অগ্নিগর্ভ মণিপুরে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ, কারফিউ জারি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i122746-অগ্নিগর্ভ_মণিপুরে_দেখামাত্র_গুলির_নির্দেশ_কারফিউ_জারি
মণিপুরে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্বৃত্তদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ১৪টি ব্যাটালিয়নকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T14:53:49+00:00 )
মে ০৪, ২০২৩ ১৩:১৯ Asia/Dhaka
  • অগ্নিগর্ভ মণিপুরে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ, কারফিউ জারি

মণিপুরে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্বৃত্তদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ১৪টি ব্যাটালিয়নকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব রাজ্যটির সহিংসতা কবলিত এলাকায় মোতায়েন করার জন্য দাঙ্গা মোকাবিলায় বিশেষ বাহিনী র্যা পিভারতের মণিপুরে সহিংসতার জেরে সেনাবাহিনী আজ গোলযোগপূর্ণ এলাকায় ফ্লাগমার্চ করেছে। একইসঙ্গে ৮ জেলায় কারফিউ জারি করার পাশাপাশি গোটা রাজ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে।

মণিপুরে মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি (এসটি) বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার দাবির বিরোধিতা করে গতকাল (বুধবার) উপজাতিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ সময়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে  আটটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং রাজ্য জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান সহিংসতা দমন করতে সেনাবাহিনী এবং অসম রাইফেলসকে ডাকা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলসের পক্ষ থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) ফ্লাগমার্চ মার্চ করা হয়। সহিংসতার পরে কমপক্ষে ৪ হাজার  মানুষকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সেনা ক্যাম্প এবং সরকারি অফিস কমপ্লেক্সে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি (এসটি) বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার দাবির প্রতিবাদে একটি ছাত্র সংগঠনের ডাকা 'আদিবাসী একতা মার্চ'-এর সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মণিপুরের অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন  (এটিএসইউএম) বলেছে মেইতেই সম্প্রদায়কে ‘এসটি’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি গতি পাচ্ছে, যার বিরুদ্ধে তারা মিছিলের ডাক দিয়েছিল। 

মণিপুরের পার্বত্য জেলায় মেইতেই সম্প্রদায়ের বসবাস। সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশিদের বড় আকারের অবৈধ অভিবাসনের কারণে তারা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন,  র‍্যালিতে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী অংশ নিয়েছিল এবং এ সময়ে তোরবাং এলাকায় উপজাতি ও অ-উপজাতিদের মধ্যে সহিংসতার খবর আসে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন,  ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় অনেক আন্দোলনকারী নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

পুলিশ বলছে,পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অ-উপজাতি অধ্যুষিত ইম্ফল পশ্চিম, কাকচিং, থৌবাল, জিরিবাম এবং বিষ্ণুপুর জেলা এবং উপজাতি অধ্যুষিত চুড়াচাঁদপুর,  কাংপোকপি ও টেংনোপাল জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রভাবে পাঁচ দিনের জন্য রাজ্য জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে, তবে  ব্রডব্যান্ড পরিসেবা চালু রয়েছে। আট জেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারফিউ জারি সংক্রান্ত পৃথক নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় ভারতীয় মহিলা বক্সার মেরি কম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  সাহায্য চেয়েছেন। তিনি এক বার্তায় বলেছেন, ‘আমার রাজ্য মণিপুর জ্বলছে। দয়া করে সাহায্য করুন।’ এই আবেদনের পাশাপাশি তিনি এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ট্যাগ করে মণিপুরে অগ্নিসংযোগের একাধিক ছবি শেয়ার করেছেন।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।