মণিপুরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত ৬০, পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় কারফিউ শিথিল
ভারতে সহিংসতা কবলিত মণিপুরের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ায় সেখানে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। রাজ্যটিতে সাম্প্রতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত এবং দুইশ'র বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
গত দু’দিনে রাজ্যে নতুন করে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। কর্মকর্তারা জানান, ইম্ফল পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, চুড়াচাঁদপুর এবং জিরিবামসহ ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় আজ (বুধবার) সকাল ৫টা থেকে ছয় ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। একইসঙ্গে মঙ্গলবার এসব জেলায় চার ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল।
রাজ্যটিতে ‘মেইতেই’ সম্প্রদায়কে তফশিলি উপজাতি বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার দাবির বিরোধিতায় জাতিগত সহিংসতায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় ২৩১ জন আহত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ, মঙ্গলবার চুড়াচাঁদপুর থেকে ২ হাজার ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত লোককে এবং সীমান্ত শহর মোরেহতে আটকা পড়া ৫০০ জনকে ইম্ফলে আনা হয়েছে।
তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী সাপম রঞ্জন সিং বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩০ হাজারের বেশি লোককে গৃহহীন হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ হাজার জনকে তাদের জেলার বাইরে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার মানুষ তাদের বাড়ির কাছাকাছি ত্রাণ শিবিরে রয়েছে।
মন্ত্রী সাপম রঞ্জন সিং বলেন, ২৬ হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনী এবং অসম রাইফেলসের জওয়ানরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফ্লাগমার্চ অব্যাহত রেখেছে।
মণিপুরের মেইতেই সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার দাবির বিরোধিতা করে গত ৩ মে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মণিপুর আয়োজিত 'উপজাতি সংহতি মার্চ'-এর পরে রাজ্যে উপজাতি ও অ-উপজাতির মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।