আইএসএফ’ বিধায়কের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ!
https://parstoday.ir/bn/news/india-i125218-আইএসএফ’_বিধায়কের_বিরুদ্ধে_বিয়ের_প্রতিশ্রুতি_দিয়ে_সহবাসের_অভিযোগ!
পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড় কেন্দ্রের ‘আইএসএফ’ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ করেছেন এক যুবতী।
(last modified 2026-03-07T14:00:26+00:00 )
জুলাই ০৬, ২০২৩ ১৫:২৬ Asia/Dhaka
  • আইএসএফ’ বিধায়কের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ!

পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড় কেন্দ্রের ‘আইএসএফ’ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ করেছেন এক যুবতী।

গতকাল বুধবারের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখনও আমার কাছে কোনও অভিযোগের কপি আসেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা  হয়নি। দেখি, কী অভিযোগ করেছে আমার বিরুদ্ধে। রাজ্য সরকার আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেছে। কখনও খুনের চেষ্টা,  কখনও অস্ত্রসহ খুন— বিভিন্ন মামলা দায়ের করেছে। এমনকী ৪২ দিন জেলেও রেখেছিল। এটা ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়।’ 

বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আরও বলেন, ‘রাজনীতি করতে এসেছি, আমি জানি এ সব ভুয়ো অভিযোগ তোলা হবে। আমি তৈরি আছি। এখনও আমার কাছে পুলিশের কোনও নোটিস আসেনি। তৃণমূলের নেতা থানায় নিয়ে এসেছেন, তার মানে বোঝাই যাচ্ছে, আমাকে দমানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এ ভাবে আমাকে দমানো যাবে না।’

আগামী ৮ জুলাই (শনিবার) রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে ওই অভিযোগের প্রভাব সম্পর্কে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘পঞ্চায়েত ভোটে কিছুটা ধাক্কা খাবে। ভোটাররা মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছে যে সরকারের বিরুদ্ধে  ভোট দেবে। অভিযোগ দেওয়া যায়, কিন্তু সত্যতা প্রমাণ করতে হবে।’

গতকাল (বুধবার) নিউ টাউন থানায় প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন এক তরুণী। নিউটাউন থানায় অভিযোগকারিণী যখন যান, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। থানা থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে অভিযোগকারী তরুণী বলেন,  ‘এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। যার বিরুদ্ধে  অভিযোগ, তাকে জিজ্ঞেস করুন। জিডি (জেনারেল ডায়েরি) করেছি। শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করেছেন নওশাদ সিদ্দিকি।’  এর পরেই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (নিউটাউন) একটি চিঠিসহ তরুণীর অভিযোগ বউবাজার থানায় পাঠিয়ে দেন। সেখানেই এফআইআর হয়। কারণ, ওই থানা এলাকাতেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ। প্রসঙ্গত, বউবাজার থানার এলাকার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির একটি কার্যালয়ও রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে বউবাজার থানা ওই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকি 

এ প্রসঙ্গে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ছি-ছি-ছি! তৌবা তৌবা। শুনতেও আমার খারাপ লাগছে। তবে শুনুন, নওশাদের বিরুদ্ধে অনেক কিছু করেছে। জেল খাটিয়েছে, মেরেছে, অনেক অত্যাচার করেছে। কিছুতে কিছু করতে পারেনি। শেষে পঞ্চায়েত ভোটে ইস্যু তৈরি করে মানুষের মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য এই কাজটা করেছে। যে মহিলা এই কথাগুলো বলছে, একমাস আগে কেন বলেনি? দু’মাস আগে কেন বলেনি? তিন দিন বাকি পঞ্চায়েত ভোটের, তার আগে বলছে কেন? যে (তৃণমূল) নেতা ওকে সাথে করে নিয়ে গেছে (থানায়) উনি কেন সাথে করে যাবেন? এর প্রধান নায়ক তো সব্যসাচী। উনিই ওই মেয়েটাকে দিয়ে এটা করিয়েছে। কিন্তু এটা করার পরে বাংলার মানুষের মুড কিন্তু আরও ঘুরে গেল।  ‘আইএসএফ’-এর প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে গেল। পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের যে ভরাডুবি হচ্ছে, সেজন্য প্রধান দায়ী হল সব্যসাচী’ বলেও মন্তব্য করেন পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। 

ওই বিষয়ে কোলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী আশফাক আহমেদ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি ওই ঘটনার অভিযোগে খুব অবাক হয়েছি! নওশাদ সিদ্দিকি পীর খানদান পরিবারের মানুষ। দাদা হুজুর পীর আবুবকর সিদ্দিকির (রহ.) পরিবার। আর উনি হচ্ছেন পীরজাদা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এটা মানাই যায় না। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটা একদম ভুয়ো কেস। আদালত বিচার করবে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোর্ট অফিসার হিসেবে প্রতিনিয়ত এ ধরণের মামলা দেখি। এটা একটা জাল কেস। এটা কিছুই না, কেবলমাত্র হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে। পশ্চিমবাংলার বুকে একমাত্র সংখ্যালঘু মুখ উঠে আসছে, এটা মাননীয়া আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানর্জির সহ্য হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস কতটা নীচে নেমে যেতে পারে, এর জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে এই ঘটনা। বাংলায় আমরা সাক্ষী যে একজন বিধায়ককে ৪২ দিন জেল খাটানো হল, মিথ্যে মামলা, ভুলভাল মামলা দিয়ে। অপমানিত করা হল। ইসলামী লেবাসধারী একজন ব্যক্তিকে অপমান করা হল। সেই ভুয়ো মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করার চেষ্টা হচ্ছে। এর থেকে জঘন্য কিছু হতে পারে না।’

কোলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম

কোলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘এগুলো নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনও ব্যাপার নয়। পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকি সাহেবের যে ইমেজ, সেই ইমেজে এগুলো বিশ্বাস করার মতো কোনও ব্যাপার নেই। উনি (নওশাদ সিদ্দিকি) ওনার কাজ করুন। ছোটোখাটো বিষয়। আমরা দেখে নেব।’ 

রাজ্যে শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করে ‘এমএলএ (বিধায়ক) নওশাদের বিরুদ্ধে খোলতে পারল না, বাচ্চা ছেলেদের দিয়ে বা মাথায় বুদ্ধি কম নিয়ে চক্রান্ত করলে এমনই হাস্যকর হয়’ বলেও কটাক্ষ করেছেন কোলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজকর্মী মোফাক্কেরুল ইসলাম।#   

পার্সটুডে/এমএএইচ/৭

  বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।