জি ২০ সম্মেলনে ভারতের বহুধর্মীয় ‘বহুত্ববাদ’ নয়, ‘হিন্দুত্ব’কে তুলে ধরা হয়েছে
জি ২০ সম্মেলনে হিন্দুত্বের আবহ, ধর্মীয় সংগীত! হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের পদক্ষেপ?
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জি ২০ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে হিন্দুত্বের আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে।
গতকাল (শনিবার) থেকে দু’দিনের শীর্ষ সম্মেলন আজ (রোববার)শেষ হয়েছে। গতকাল থেকে দু’দিনের শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন জায়গায় ‘ইন্ডিয়া’র পরিবর্তে দেশের নাম ‘ভারত’ লেখা হয়েছে। রাতে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে নৈশভোজের আসরে আবহজুড়ে ছিল ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও ধর্মীয় সঙ্গীত। আন্তর্জাতিক মহলে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সাধারণত হিন্দু জাতীয়তাবাদী পার্টি এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার বলা হয়ে থাকে। কার্যত সেই তকমার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই যেন জি টুয়েন্টির আসরজুড়ে হিন্দুত্বের প্রবল উপস্থিতি দৃশ্যমান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ প্রসঙ্গে আজ (রোববার) পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার রেডিও তেহরানকে বলেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে সুবিধা পেতে হিন্দু রাষ্ট্রের আবহ তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপিকে টার্গেট করে ভানু সরকার বলেন, ‘হিন্দু রাষ্ট্র নিয়ে ওরা যেটা শুরু করেছে, বিশ্বের একটা মঞ্চে মোদী এটাকে একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে রাখলেন যাতে আগামী নির্বাচনে ২০২৪ সালে এটাকে হাতিয়ার করে ভোটে জিততে পারে। সংবিধান অনুযায়ী গেলে হিন্দু রাষ্ট্র অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু এটা আবহ তৈরি করে রাখল যাতে এটা ভোটে কাজে আসে। হিন্দু রাষ্ট্রের যে গল্প তা ওরা ভোটে জেতার জন্য করছে। এবং সেটা বিশ্ব মঞ্চে তুলে ওরা ভারতবর্ষকে ছোটো করছে। একটা উপমহাদেশের গরিমাকে ওরা ধ্বংস করছে। মানুষ তাদের এই দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেবে না’ বলেও মন্তব্য করেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, জি ২০ সম্মেলনে ভারতের বহুধর্মীয় ‘বহুত্ববাদ’ নয়, ‘হিন্দুত্ব’কে তুলে ধরা হয়েছে। গোটা সম্মেলনই যেন দৃশ্যত ভারতকে আদর্শ এক হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এক পদক্ষেপ হয়ে থাকছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শিল্প প্রদর্শনী-কক্ষের প্রবেশপথে ২০ হস্তবিশিষ্ট কাষ্ঠ নির্মিত মহিষাসুরমর্দিনীর মূর্তি। তার ডানদিকে ধাতব গণপতি মূর্তি প্রদর্শনী-স্থলের প্রধান আকর্ষণ। কক্ষের এক প্রান্তে তাঞ্জোর আর্টের পেন্টিং-এর প্রতিপাদ্য ‘শিবশক্তি’ এবং ‘বিষ্ণুলক্ষ্মী’। মহাদেব, বিষ্ণু, পার্বতী এবং লক্ষ্মীর তাঞ্জোর পেন্টিং। অন্য প্রান্তে রাধাকৃষ্ণ এবং গোপিনী আখ্যান। প্রতিটি স্টল এবং কক্ষে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি এবং মন্দিরের রেপ্লিকা। সম্মেলন স্থলের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে সর্বত্র ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সংস্কৃতি, পোশাক, উৎসব, পার্বণের ছবি লাগানো হয়েছে। প্রত্যেকটি ছবিতে প্রকাশ- হিন্দুধর্মের নানাবিধ উৎসবে মেতে আছে বিভিন্ন রাজ্যের নারী-পুরুষ। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই উৎসবমুখর মুহূর্তের পৃষ্ঠভূমি ‘পদ্মফুল’। ভারতীয়ত্ব, হিন্দুত্ব এবং পদ্মফুল। প্রসঙ্গত, বিজেপির প্রতীক হল পদ্মফুল। এই সব মিলিয়ে একে হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।