জম্মু-কাশ্মিরে ‘পেলেট গান’ ব্যবহার বন্ধ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
কাশ্মিরে ‘পেলেট গান’ বা ছররা গুলি চালানো বন্দুক ব্যবহার বন্ধ করার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
জম্মু-কাশ্মির হাইকোর্ট বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পেলেট গানের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া উচিত। এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ জানায়, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোকসভায় বলেছেন, পেলেট গানের বিকল্প খুঁজতে এক বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হবে। পেলেট গানের ব্যবহার বন্ধ করতে এই বিবৃতিই যথেষ্ট হওয়া উচিত।’
জম্মু-কাশ্মির হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এন পল বসন্ত কুমার এবং বিচারপতি মুজাফফর হোসেন আতাহারের সমন্বিত বেঞ্চ জানায়, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ওই বিবৃতিতে এটাও স্পষ্ট যে, পেলেট গান হল প্রাণঘাতী।”
কার্যত সরকারপক্ষকে অভিযুক্ত করে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে চোখে আঘাত লাগা একটি শিশুর ছবি দেখিয়ে আদালত কঠোর মন্তব্যে জানায়, “যখন কারো দৃষ্টি শক্তি চলে যায়, সে সবকিছু হারিয়ে ফেলে। কোনো সংবেদনশীল মানুষ এই ছবি সহ্য করতে পারবেন না। এতো পাঁচ বছরের একটি বাচ্চা। ওকে নিশ্চয় পাথর ছোঁড়ায় অভিযুক্ত করা যায় না!”
আদালত শান্ত এলাকায় কারফিউ শিথিল করে মানুষজনের খাদ্য সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে এবং ওষুধপত্রের দোকান খোলা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রয়োজনে ওষুধ বিক্রেতাদের নিরাপত্তা দিতে হবে বলেও আদালত জানিয়েছে।
আদালতের মন্তব্য, “কাশ্মির বর্তমানে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে চলছে। এমতাবস্থায় কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। যারা লোকেদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে, ওষুধপত্র বিতরণ করছে তাদের প্রশংসা করা উচিত, তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।”
রাজ্যে ব্যাংক এবং এটিএম পরিষেবা সচল রাখার জন্যও আদালত এদিন নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও তারা প্রয়োজনে পুলিশি নিরাপত্তা নিতে পারবেন।
হাইকোর্ট এক নির্দেশে রাজ্যে চলমান অশান্তির জেরে যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং যাদের বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের অন্যত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সরকারকে নিশ্চিত করতে বলেছে।
গণমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে আদালত বলেছে, “কমপক্ষে ১৪০ জনের চোখের অপারেশন হওয়া প্রয়োজন। যদিও বলা হচ্ছে হাসপাতালে এক সপ্তাহে ২৮/৩০ জনের অপারেশন করার ব্যবস্থা আছে। এমতাবস্থায় ১৪০ জনের অপারেশন করতে এক মাসেরও বেশি সময় চলে যাবে। যদিও চোখে আঘাত লাগার ৩ সপ্তাহের মধ্যে অপারেশন করা না হলে দৃষ্টিশক্তি চলে যাবে।”
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, “উপকরণ এবং অন্যান্য সামগ্রীর অভাবের কথা মানা হবে না। সমস্ত আহতদের সময়ের মধ্যেই চিকিৎসা করাতে হবে।” আদালত এ ব্যাপারে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪