জম্মু-কাশ্মিরের বাড়ছে মৃত্যু মিছিল, লাঠিচার্জ-পেলেট বুলেট অব্যাহত
-
পুলিশের গুলিতে নিহত এক কাশ্মিরির জানাযা নামায
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষে ৩ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও কমপক্ষে ৪০০ জন আহত হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৭ হাজার ৫০০ জন। পাথর ছোঁড়া বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করতে নিরাপত্তা বাহিনী এক বিশেষ অভিযানে কমপক্ষে ৫০০ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) আন্দোলনের ২৯ তম দিন সকালে দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার একটি এলাকায় প্রতিবাদকারীদের এক সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি চালানোসহ শূন্যে গুলি ছোঁড়ে এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটালে ৭ মহিলাসহ কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, গতকালই বনধের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাশ্মিরি নেতারা তা বাড়িয়ে ১২ আগস্ট পর্যন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার কাশ্মিরি নেতারা ‘দরগাহ চলো’ কর্মসূচির ডাক দেন। যদিও কাশ্মিরি নেতাদের ওই কর্মসূচিকে ব্যর্থ করতে গোটা রাজধানীতে কারফিউয়ের পরিসর বাড়িয়ে দেয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা তথা গৃহবন্দী অবস্থা উপেক্ষা করে হজরতবাল দরগাহের উদ্দেশ্যে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হওয়ার জন্য পথে বেরোলে হুররিয়াত নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী এবং মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
ঐতিহাসিক হজরতবাল দরগাহে সাম্প্রতিক কালের মধ্যে এই প্রথম সেখানে জুমা নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। একটি সূত্র বলছে, গত ২০১০ সালের পর এই প্রথম সেখানে জুমা নামাজ অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে এ নিয়ে একনাগাড়ে চতুর্থ জুমা নামাজ অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।
এদিন জুমা নামাজের পরেই বিক্ষোভকারীরা কারফিউ অমান্য করে প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বাদগাম জেলার চাদুরা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মুহাম্মদ মকবুল খান্ডে নামে এক যুবক নিহত হয়।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপত্যাকার অন্যত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এখানে প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে পেলেট গানের গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়। খান সাহিব এলাকায় এবং সোপোরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্য দুই যুবকের মৃত্যু হয়।
বিক্ষোভকারীরা সোপোর, বারামুল্লা, কুপওয়াড়া প্রভৃতি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। তারা করণ নগর থানা এবং অন্যত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা হব্বব এলাকায় কাশ্মিরের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আসিয়া নাকাশের পৈতৃক বাড়ি এবং খান সাহিবে নির্দলীয় বিধায়ক হাকিম মুহাম্মদের বাড়িতে চড়াও হয়। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৬