‘দিল্লির পদক্ষেপে সিপিইসি প্রকল্পে ব্যাঘাত হলে বেইজিং চুপ করে থাকবে না’
-
প্রফেসর ড. হু শিশেং
বালুচিস্তান ইস্যুতে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন বলছে, নয়াদিল্লির কোনো পদক্ষেপে যদি তাদের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় তাহলে বেইজিং চুপ করে বসে থাকবে না।
চীনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় অধিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘চায়না ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পোরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স’ (সিআইসিআইআর)-এর সংশ্লিষ্ট হু শিশেং ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রফেসর ড. হু শিশেং ‘ইনস্টিটিউট অব সাউথ অ্যান্ড সাউথ-ইস্ট এশিয়ান অ্যান্ড ওসেনিয়ান স্টাডিজ’-এর ডিরেক্টর।
তিনি বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক বালুচিস্তান প্রসঙ্গ উল্লেখ করার পর তা চীনের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এক সংবাদ সম্মেলনে হু বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে তার পরিবর্তিত অবস্থান চীনের জন্য সতর্কবার্তা। এবার প্রধানমন্ত্রী মোদি লালকেল্লায় কাশ্মির (পাক অধিকৃত) এবং বালুচিস্তান ইস্যু তোলায় বেইজিংয়ের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।’
হু বলেন, চীনের আশঙ্কা যে, ভারত গোলযোগপূর্ণ বালুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান বিরোধী অংশকে ব্যবহার করতে পারে এবং এর ফলে চীনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বিপন্ন হতে পারে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি এরকম হয় এবং এতে চীনের সিপিইসি প্রকল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়ে তাহলে বেইজিং চুপ করে বসে থাকবে না। তারাও বালুচিস্তান ইস্যুতে যুক্ত হবে। যদি ভারতের জন্য আমাদের সিপিইসি প্রকল্প ব্যাহত হয় তাহলে চীন এবং পাকিস্তান যৌথ পদক্ষেপ নেবে। এর ফলে ভারত-চীন সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।’
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বালুচিস্তান, পাক অধিকৃত কাশ্মির এবং গিলগিট-বাল্টিস্তানের মানুষের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছিলেন। তাদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরেই এই ইস্যুতে এবার ভারত-পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনও জড়িয়ে পড়ল। যদিও চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোদির বক্তব্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে বালুচিস্তান, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মিরে পাকিস্তানি নীতির সরাসরি সমালোচনা করেছেন, তাহার রেশ অনেক দূর যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কেননা, বালুচিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মির, দু’টি স্থানেই চীনের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক তথা রাজনৈতিক স্বার্থ অনেকাংশে জড়িত। পাকিস্তান-চীনের স্বার্থকে প্রধানমন্ত্রী মোদি যেভাবে নাড়া দিয়েছেন, তার ধাক্কা সামাল দেয়ার মতো যোগ্য কূটনৈতিক শক্তি এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘে তাদের মোকাবিলা করার সামর্থ্য প্রধানমন্ত্রীর আছে কি না তা নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৯