ডোকলাম ইস্যুতে রাশিয়ার সমর্থনের আশায় ভারত, মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্টে উদ্বেগ
-
ভ্লাদিমির পুতিন ও নরেন্দ্র মোদি
ডোকলাম ইস্যুতে চীনের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যে এ বিষয়ে রাশিয়ার সমর্থন লাভের চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। বিকাশমান পাঁচটি অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত সংস্থার ব্রিকসের আসন্ন সম্মেলনের আগেই নয়াদিল্লি ওই সমর্থন লাভের চেষ্টা করছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের একটি সূত্র বলছে, দু’দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ডোকলাম ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ্যে না আসায় তা ভারতের জন্য ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়ার সমর্থনের আশা করছে।
চীনকে ভারত বিরোধী মনোভাব ত্যাগ করানোর জন্য ভারত গত ৬ মাস ধরে মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। চলতি বছরে পরমাণু সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বা এনএসজি সদস্যপদ ইস্যুতে ভারত বিরোধিতা থেকে চীনকে বিরত রাখতে ভারত রশিয়ার দ্বারস্থ হয়েছিল।
নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার সেজন্য একটি বন্ধু দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করা স্বাভাবিক ব্যাপার।
ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে সম্প্রতি প্রস্তুতি বৈঠকের সময় ভারতীয় কর্মকর্তারা রাশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডোকলাম ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। রশিয়াকে এটা বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, ডোকলামে সড়ক তৈরির মাধ্যমে চীন স্থিতাবস্থা ভাঙছে এবং ভারতের নিরাপত্তার জন্য যা বিপজ্জনক।
আগামী ৩/৫ সেপ্টেম্বর চীনে ব্রিকস সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার রিপোর্টে ডোকলাম নিয়ে সংঘাতের ফলে ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা করা হয়েছে।
মার্কিন রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে দু’দেশের সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ভারত-চীনের ২১৬৭ মাইল দীর্ঘ সীমান্তই শুধু নয়, এর ছাপ পড়বে গোটা দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে।’
মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা সিআরএস-এরএক বিশেষজ্ঞের মতে, ‘একের পর এক বিভিন্ন ইস্যুতে চীন ভারতকে রীতিমতো চাপের মুখে ফেলেছে। ভারতের পরমাণু সরবরাহকারী গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া আটকানোর চেষ্টা করছে বেইজিং। এছাড়া পাক-অধিকৃত কাশ্মিরের মধ্য দিয়ে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি, জাতিসংঘের হাত থেকে পাকিস্তানের সমর্থনপ্রাপ্ত একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে রক্ষা করা, ভারত মহাসাগর তীরবর্তী অঞ্চলে চীনের কৌশলগত উপস্থিতি ইত্যাদি। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১