রোহিঙ্গা বিতাড়ন ইস্যুতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু
-
ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট
ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়েছে। আগামী ১৩ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতে আশ্রয় নেয়া কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কেন্দ্রীয় সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে মামলা হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রোহিঙ্গাদের পেশ করা আবেদনের শুনানি হবে শুধুমাত্র আইনি যুক্তির মাপকাঠিতে।
বিষয়টিতে মানবীয় ও মানবিকতার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকায় পিটিশনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কোনো প্রকার আবেগের ব্যাপার টেনে না আনতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পারস্পরিক মর্যাদা দিয়ে বিষয়টি শোনা উচিত বলেও আদালত মন্তব্য করেছে।
আদালত আজ দু পক্ষকে সমস্ত নথি ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিশদ বিবরণ প্রস্তুত করে আদালতে পেশ করতে বলেছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্পর্কিত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিসহ এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক বিস্তারিত শোনা হবে বলে আদালত জানিয়েছে। অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, এই মামলায় আগে ঠিক করা হোক আদালত এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে কী না।
আজ রোহিঙ্গাদের স্বপক্ষে বিশিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী ফলি এস নরিম্যান বলেন, এটা স্পষ্ট নয় যে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার নীতি কেন পরিবর্তন করেছে। নরিম্যান বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- রোহিঙ্গাদের আবেদন বিচারযোগ্য কারণ সংবিধান ব্যক্তিগত অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের হলফনামায় পাল্টা সাফাইতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা ৩২ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে আবেদন জানিয়েছেন তা শুনানিযোগ্য নয় কারণ ৩২ অনুচ্ছেদ দেশের নাগরিকদের জন্য; অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নয়।
আজ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও ওই মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।
রোহিঙ্গা মুসলিমরা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তারা বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ও নানা বেআইনি কাজকর্মে জড়িত বলে দাবি করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সরকারপক্ষ থেকে হলফনামা দেয়া হয়। কিন্তু গত ২২ সেপ্টেম্বর ওই হলফনামার পাল্টা জবাবে দুই রোহিঙ্গার হলফনামায় সরকারের দাবির বিরোধিতা করে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন তো দূরের কথা কোনো অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গেও জড়িত নন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গাদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি প্রসঙ্গে কোথাও একটি এফআইআরও করা হয় নি।
রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত সংবিধানের ১৪, ২১ এবং ৫১(সি) ধারার লঙ্ঘন। তাদের ফেরত পাঠানো হলে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন লঙ্ঘিত হবে। আন্তর্জাতিক আইন এ সকল শরণার্থীর নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেয়।
আবেদনে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টকেও উদ্ধৃত করা হয়েছে যাতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাঁচার স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/সিরাজুল ইসলাম/৩