হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাশ্মিরে বনধ: মালিক গ্রেফতার, মীরওয়াইজ গৃহবন্দি
-
হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ ওমর ফারুক গৃহবন্দি
কাশ্মিরে বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যার প্রতিবাদে আহুত বনধকে কেন্দ্র করে শ্রীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যৌথ প্রতিরোধ আন্দোলন নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আজ (শনিবার) ওই বনধের ডাক দেয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জম্মু-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্টের (জে কে এল এফ) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও দুখতারান-ই মিল্লাত প্রধান আসিয়া আন্দ্রাবিকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি আগে থেকেই গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সাত থানা এলাকায় কারফিউয়ের মতো নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। রায়নাওয়াড়ি, খানইয়ার, নৌহাট্টা, সাফাকদল, এম আর গঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া, মৈসুমা, ক্রালখুদ এলাকায় আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এ সকল এলাকায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ব্যর্থ করতে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর এলাকায় ঢোকা ও বেরোনোর মুখে আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মির পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের আদেশে নিষেধাজ্ঞা কবলিত এলাকায় সরকারি কর্মী, ব্যাংক কর্মচারী ও পরীক্ষার্থীদের ছাড় দেয়া হয়েছে। কাশ্মিরে প্রবল ঠাণ্ডার ফলে সেখানে স্কুল, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক, জে কে এল এফ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিকের আহ্বানে বেসামরিক ব্যক্তিদের হতাহতের প্রতিবাদে আজ সেখানে বনধের ডাক দেয়া হয়।

এদিকে, আজ শ্রীনগরে ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার হওয়ায় শ্রীনগর-বারামুল্লা মহাসড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। ঘটনাস্থলে জম্মু-কাশ্মির পুলিশ, সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ও বোমা নিরোধক বাহিনী পৌঁছায়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বোমা নিরোধক বাহিনী আইইডি নিষ্ক্রিয় করতে সমর্থ হয়েছে। চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি সোপোরে আইইডি বিস্ফোরণে পুলিশের চার জওয়ান নিহত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত সন্ধ্যা সোয়া সাতটা নাগাদ সোপিয়ান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক যৌথফাঁড়িতে অজ্ঞাত গেরিলারা গুলিবর্ষণ করেছে। ফাঁড়িটিতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা থাকেন। ওই ঘটনার পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে গেরিলারা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, জম্মু-কাশ্মির পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ ও সিআরপিএফের যৌথবাহিনী গেরিলাদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৩