পাকিস্তানি সেনাদের গুলির ঘটনায় কাশ্মির বিধানসভায় হট্টগোল, ওয়াকআউট
https://parstoday.ir/bn/news/india-i51865-পাকিস্তানি_সেনাদের_গুলির_ঘটনায়_কাশ্মির_বিধানসভায়_হট্টগোল_ওয়াকআউট
সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মির বিধানসভা থেকে বিরোধীদলীয় সদস্যরা ওয়াকআউট করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিরোধী সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে বিবৃতি দেয়ার দাবি জানান।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৪, ২০১৮ ১২:১০ Asia/Dhaka
  • জম্মু-কাশ্মির বিধানসভা
    জম্মু-কাশ্মির বিধানসভা

সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মির বিধানসভা থেকে বিরোধীদলীয় সদস্যরা ওয়াকআউট করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিরোধী সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে বিবৃতি দেয়ার দাবি জানান।

গতকাল (মঙ্গলবার) বিধানসভার কাজ শুরু হওয়ার পরেই বিরোধী ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেস বিধায়করা পাকিস্তানি গুলিবর্ষণের হাত থেকে মানুষজনকে রক্ষা করতে সরকারি ব্যর্থতার অভিযোগ করে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।

সীমান্ত এলাকায় পাক সেনাদের গোলাগুলিবর্ষণের ফলে সেখানে ১২ জন নিহত হয়েছে যার মধ্যে ৭ জনই স্থানীয় বাসিন্দা। সরকারদলীয় সদস্যদের সঙ্গে বিরোধী সদস্যদের তুমুল গোলযোগের মধ্যে ন্যাশনাল কংগ্রেস সদস্য আলী মুহাম্মদ সাগর বলেন, সীমান্তে গুলিবর্ষণে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার নিশ্চুপ হয়ে আছে। সীমান্তে অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সরকারকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতি দেয়া উচিত।

আলী মুহাম্মদ সাগর বলেন, “বিজেপি এমপি যুগল কিশোর শর্মা সম্প্রতি দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তায় বাঙ্কার নির্মাণের জন্য ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলছেন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে বাঙ্কার নয় বরং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উন্নত সম্পর্ক স্থাপন প্রয়োজন। এভাবে জোটের দুই অংশীদারের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আমরা চাই সরকার এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করুক।”  

উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ

এ সময় সরকারপক্ষ ও বিরোধী সদস্যদের তুমুল গোলযোগের মধ্যে বিজেপি সদস্যরা পাকিস্তানবিরোধী স্লোগান দেন। পরে বিধানসভা থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ওমর আবদুল্লাহসহ অন্য সদস্যরা বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন।     

ওই ইস্যুতে আজ (বুধবার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগের সহঅধিকর্তা ও উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, “কাশ্মির সীমান্তে প্রতিনিয়ত দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষ ও সেনাসদস্যদের মৃত্যু হচ্ছে। প্রত্যকদিনই মৃত্যু মিছিল বাড়ছে। একে বন্ধ করতে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে  দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসা উচিত। সীমান্তে হতাহতের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে অবিলম্বে তা বন্ধ না করা গেলে তাহলে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী সেই পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা রাখি।  কারণ, দু’দেশের সেনাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।” 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪