হরিয়ানায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের হামলা, মারধর: আতঙ্কে মুসলিমরা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i58248-হরিয়ানায়_মসজিদে_দুর্বৃত্তদের_হামলা_মারধর_আতঙ্কে_মুসলিমরা
ভারতে বিজেপিশাসিত হরিয়ানার কারনালের একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে মুসল্লিদের মারধর করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, গত (বুধবার) রাতে নেওয়াল গ্রামের মসজিদটিতে এক ডজনেরও বেশি হামলাকারী ঢুকে ভাঙচুর করে এবং মুসল্লিদের মারধর, গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ০১, ২০১৮ ১৪:৪১ Asia/Dhaka

ভারতে বিজেপিশাসিত হরিয়ানার কারনালের একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে মুসল্লিদের মারধর করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, গত (বুধবার) রাতে নেওয়াল গ্রামের মসজিদটিতে এক ডজনেরও বেশি হামলাকারী ঢুকে ভাঙচুর করে এবং মুসল্লিদের মারধর, গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়।

লাউডস্পিকারে আযান দেয়াকে কেন্দ্র করে মূল বিবাদের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। মুসলিমরা বলছেন, ওই ঘটনার সময় লাউডস্পিকার বন্ধ ছিল। মাত্র কিছু সময়ের জন্য আযান হয় তাও কম শব্দে দেয়া হয়। তাদের দাবি, গ্রামেরই কিছু মানুষজন ওই ঘটনার জন্য দায়ী। মসজিদটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাইকে আযান দিয়ে নামাজ পড়া হলেও এর আগে কখনো এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের জন্য ওই ঘটনা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

মুসলিমদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মুসল্লিদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা মসজদিটিতে লাউডস্পিকারে আযান ও নামাজ না পড়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

আতঙ্কে মুসলিমরা

মুসলিম এক যুবক গণমাধ্যমকে জানান, ‘১৫/২০ জন লোক এসে নামাজরত থাকা অবস্থায় মুসল্লিদের উপরে হামলা চালায়, একটি দেওয়াল (ইটের কাঁচা দেওয়াল) ভেঙে দিয়েছে, মাইক ভেঙে দেয়া হয়েছে, তার ছিঁড়ে দেয়া হয়েছে। তারা হুমকি দিয়েছে যদি তোমরা ফের এখানে আযান দাও এবং নামাজ পড় তাহলে তোমাদের হত্যা করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট মসজিদের একটি কাঁচা দেওয়ালও দুর্বৃত্তরা ভেঙে দেয়াসহ লাউডস্পিকারের তার ছিঁড়ে দিয়েছে। ওই ঘটনার পরে মুসলিমরা নামাজ মাঝপথে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়ে তারা স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গ্রামটিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুঞ্জপুরা থানার কর্মকর্তা রাজ কুমার বলেন, বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে ওই ঘটনার পর থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ড. আব্দুস সাত্তার

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নববালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘হরিয়ানায় মনোহর লাল খাট্টার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এগুলো লক্ষ্য করা গেছে। এটা নতুন কিছু নয়। সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি। এই হরিয়ানাতেই এর আগে আমরা দেখেছি গুরুগ্রামে তারা জুমা নামাজ পড়তে বাধা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে জুমা নামাজ পড়তে গেলে মসজিদে পড়তে হবে। এটা সকলেই জানে যে মসজিদে জুমার নামাজে সবসময় জায়গার সঙ্কুলান হয় না। মানুষ পরিযায়ী পাখির মতো নিজের রুজি রুটি সংসারের জন্য এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ছুটে বেড়ায়। ফলে ফাঁকা জায়গায় কিছুক্ষণের জন্য, বেশিক্ষণ সময়ও লাগে না কিন্তু কিছুক্ষণের জন্য নামাজ পড়ার জায়গা তাও তারা দেবে না। কিন্তু কেউ এ প্রশ্ন  করবে না যে পুজোর সময় বা অন্যান্য ধর্মীয় কারণে, অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাস্তায় যে ব্লক করা হয় তা দীর্ঘক্ষণ ও দিনের পর দিন ধরে হয় তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে না। এখন একটা সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা দেশ জুড়েই চলছে। ‘ঘৃণা’ ও ‘অসহিষ্ণুতা’ এই দুটো হচ্ছে  বিজেপি’র গত চার বছরের মূলধন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তারা কিছু করতে পারেনি, দিশা দেখাতে পারেনি। যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, সেই প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করতে পারেনি। সবই ফাঁকা বুলি! একটা কাজই তারা   সচেতনভাবে করেছে, কারণ এই সরকার তো এর আগেও বহুবার বলেছি, এই গণমাধ্যমেও বলেছি, এই সরকারের মূল চালিকা শক্তি হল, আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ। যার নীতি ও দর্শন হচ্ছে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা। হিন্দু রাষ্ট্র তখনই প্রতিষ্ঠা করতে পারবে যখন ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্র্যের যে নীতি তাকে যতক্ষণ না বিসর্জন দেয়া সম্ভব হয়। ওরা ওই লক্ষ্যেই কাজ করছে।’ #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১