গুজরাট দাঙ্গায় মোদিকে ক্লিনচিট দেয়ার বিষয়ে শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে
ভারতের গুজরাটে ২০০২ সালে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্লিনচিট দেয়ার বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। আগামী ১৯ নভেম্বর ওই আবেদনের শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।
২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, গুজরাট দাঙ্গার সময় আহমেদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটিতে ৬৯ জনকে হত্যা করেছিল দাঙ্গাকারীরা। নির্মমভাবে হত্যা করা হয় কংগ্রেসের সাবেক এমপি এহসান জাফরিকেও।
তাঁর স্ত্রী জাকিয়া জাফরির অভিযোগ, সেসময় একনাগাড়ে যোগাযোগ করেও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। ওই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছিলেন জাকিয়া জাফরি। কিন্তু ঘটনার তদন্তে নেমে মোদিকে ক্লিনচিট দিয়েছিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২০১৪ সালে হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন জাকিয়া জাফরি। কিন্তু তাঁর ওই আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। এরপর তিনি মোদির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান।
'সুবিচার পাওয়ার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে'
এপ্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দী মুক্তি কমিটির’ সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এহসান জাফরি কংগ্রেসের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জনশ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন। যখন গুলবার্গ সোসাইটি চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছিল, তিনি পুলিশ প্রশাসন ও সাধারণ প্রশাসনের নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চস্তর পর্যন্ত সবাইকে সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে দিল্লি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই তাঁর আবেদনে সাড়া দেননি। এটা প্রমাণিত যে তিনি সব জায়গায় জানিয়েছিলেন। আমাদের দেশে অনেক সময় তথ্য প্রমাণের অভাবে অনেক অভিযুক্ত ছাড় পেয়ে যায়। কিন্তু তাঁর মানে এটা নয় যে তিনি নিরপরাধ। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) যা-ই ক্লিনচিট দিক না কেন, নৈতিক জায়গা থেকে এবং ঘটনা যদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সঠিক তদন্ত হয় তাহলে প্রমাণিত হবে যে তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং গণহত্যা ঘটনাতে সাহায্য করেছেন। পরিকল্পিতভাবে গণহত্যায় তাঁর মদদ ও পরিকল্পনা ছিল। দুর্ভাগ্য যে এত বছর পরেও জাকিয়া জাফরি তিনি সেভাবে কোথাও সাহায্য পাননি বিচার ব্যবস্থার জায়গা থেকে। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদন শুনতে রাজি হওয়ায় একটা রূপালি আশা দেখা যাচ্ছে এতে সুবিচার পাওয়ার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে আশাবাদী।’#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৩