বিজেপি ক্ষমতায় এলে মোদি চিরদিনের মতো প্রধানমন্ত্রী হবেন: কেজরিওয়াল
https://parstoday.ir/bn/news/india-i69114-বিজেপি_ক্ষমতায়_এলে_মোদি_চিরদিনের_মতো_প্রধানমন্ত্রী_হবেন_কেজরিওয়াল
ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, পরবর্তী সরকার বিজেপির হলে নরেন্দ্র মোদি চিরদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশে ২০১৯ সালের পরে আর কোনও নির্বাচন হবে না। তিনি গতকাল (রোববার) ওই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ২৫, ২০১৯ ১২:৪৬ Asia/Dhaka
  • অরবিন্দ কেজরিওয়াল
    অরবিন্দ কেজরিওয়াল

ভারতের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, পরবর্তী সরকার বিজেপির হলে নরেন্দ্র মোদি চিরদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশে ২০১৯ সালের পরে আর কোনও নির্বাচন হবে না। তিনি গতকাল (রোববার) ওই মন্তব্য করেন।

কেজরিওয়াল বলেন, ‘সমস্ত দেশপ্রেমীর লক্ষ্য হওয়া উচিত যেকোনো মূল্যে মোদি সরকারের ক্ষমতায় ফেরা আটকানো। বিজেপি ২০১৯ সালে ক্ষমতায় এলে উনি (মোদি) চিরদিনের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন। এরপরে দেশে আর কোনও দিন নির্বাচনই হবে না।’

কেজরিওয়াল হরিয়ানার গুরুগ্রামে এক মুসলিম পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে পেটানোর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, আজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনা কারণে পেটানো হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে, তাঁদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। যারাই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করছে তাঁদেরকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেয়া হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদি

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজ এমপি বলেছিলেন, ‘এবার মোদি সুনামিতে দেশ জেগে উঠেছে। আমি মনে করি, ২০২৪ সালে আর কোনও নির্বাচন হবে না। এটাই শেষ নির্বাচন। আমরা দেশের নামে এই নির্বাচন লড়ছি।’

তাঁর ওই মন্তব্য প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের মুখপাত্র জিশান হায়দার সেসময় বলেছিলেন,  ‘সাক্ষী মহারাজ আসলে বিজেপির মনোবাঞ্ছা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।’ 

সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য নীলোৎপল বসুর মতে, ‘বিজেপি যে হিন্দু-রাষ্ট্র চায়, তা স্পষ্ট। কিন্তু মানুষ সেই ইচ্ছে পূরণ হতে দেবে না।’

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়য়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ সংবিধানের মূলত যে তিনটি স্তম্ভ সেই তিনটি স্তম্ভই ভীষণভাবে আক্রান্ত। আমরা দেখেছি পার্লামেন্টে কোনও কথা বলা যায় না। ওরা যেটা চায় সেভাবেই নিয়ম করে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা আজও এসব করে চলেছে। দ্বিতীয়ত হল, প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে গেরুয়াকরণ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, সংবিধানের যে কাস্টোডিয়ান এবং ব্যাখ্যাকর্তা সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রেও আমরা দেখছি বিজেপির হস্তক্ষেপ উত্তরোত্তর বেড়েছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম চারজন সিনিয়র বিচারপতি তাঁরা এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন। চতুর্থত, গণমাধ্যম পুরোপুরি আরএসএস-বিজেপির এখতিয়ারে, ভয়ংকরভাবে। প্রশ্ন করার স্বাধীনতাই গণমাধ্যম হারিয়ে ফেলেছে। গণমাধ্যম যা আছে আপনারা দেখবেন তাদের স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যম বড়বড় শিল্পপতি, পুঁজিপতিদের দ্বারা চালিত হয়। আমরা আগেও দেখছি একটি গণমাধ্যমের যেসব সাংবাদিক প্রশ্ন করছিলেন তাঁদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চলে যেতে হয়েছে তাঁদের। ফলে প্রশ্ন করার স্বাধীনতাটাই হারিয়ে গেছে, যেটা হচ্ছে গণতন্ত্রের মৌলিক কথা। গণতন্ত্রে যদি প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে জবাবদিহি বলে কোনও বিষয় থাকে না।’

ড. আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কোনোদিনই সংবাদ সম্মেলন করেননি। কোনও প্রশ্ন নেন না। সব  সাজানো প্রশ্ন, সাজানো উত্তর। এটা আমরা দিনের পর দিন দেখে চলেছি। গোটা কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় বলুন, কলজে বলুন, সর্বোপরি লক্ষ্য করবেন ইতিহাসকে ‘মিথ’-এর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিহাসকে পরিবর্তন করার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি বিজ্ঞান কংগ্রেসে আমরা তা দেখেছি। গোটা দেশ জুড়ে ভুয়ো মিথ্যে খবরের রমরমা। রুজিরুটি নেই, কোনও কিছু নেই। ফলে, গণতান্ত্রিক স্তম্ভগুলো একের পর  এক শেষ হতে চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের নির্বাচনকে এমনভাবে করানোর চেষ্টা হচ্ছে যা মার্কিন প্রেসিডেন্টের আদলে করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন যেভাবে হয় সেভাবে করার চেষ্টা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুব ভয়ঙ্কর! দেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়। কয়েকদিন আগে গুরুগ্রামে ঘটনা ঘটেছে (সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারের সদস্যদের উপরে নির্মমভাবে হামলা ও নির্যাতন)। একের পর এক। জায়গাগুলোর নাম পাল্টে দেয়া হয়েছে। গুরুগাঁও হয়েছে গুরুগ্রাম। লক্ষ্য করলে দেখবেন এলাহাবাদ, মুঘলসরাইয়ের নামও পাল্টে দেয়া হয়েছে। সমস্ত ক্ষেত্রে তারা যা চাচ্ছেন, তারা সেভাবেই করছেন। এ এক ভয়ঙ্কর দিক! এরফলে সব থেকে যদি কোথাও সঙ্কট এসে থাকে সেটা হচ্ছে সাংবিধানিক সঙ্কট।’

সাংবিধানিক সঙ্কটকে কীভাবে এই নির্বাচনে দেখা হচ্ছে সে সম্পর্কে জনগণের কাছে আসল খবর পৌঁছে দেয়া হচ্ছে না। মিথ্যে ভুয়ো খবরের মধ্য দিয়ে এটা করা হচ্ছে। ফলে যদি এই নির্বাচনে আরএসএস-বিজেপির সরকারকে পরাস্ত করা না যায় তাহলে সাংবিধানিক সঙ্কট আরও বৃহত্তর রূপ নেবে। এই আশঙ্কা অনেকেই করেছেন। সেজন্যই মতাদর্শের লড়াই শুরু হয়েছে। হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্ব এই তিনের ভিত্তিতে আরএসএস-বিজেপি সরকার চালাবে। এই লক্ষ্যে তারা সরকার চালাচ্ছে। তারা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, কাঠামো কিছুই মানতে চায় না। স্বভাবতই আশঙ্কার কারণ ভীষণভাবে আছে এবং সেটা মানুষকে সমস্ত রাজনৈতিক দল মানুষকে বলছে। ওরা যত বলছে, প্রতিবাদের কণ্ঠও এগোচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সরকারি কাঠামো ব্যবহার করে যেভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে তারফলে বিরোধীদের একটু অসুবিধা আছেই। কারণ, বিরোধীরা তো সরকারি কাঠামোটাকে ব্যবহার করতে পারছে না, সেটা বিজেপি করতে পারছে। পুরো সরকারি কাঠামো বিজেপি ব্যবহার করছে। এটা একটা ভয়ঙ্কর দিক। এর বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক মানুষ লড়াই করছেন। এবং এই লড়াই করতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে, মানুষকে বলতে হবে এই ভয়ঙ্কর বিপদের কথা। সমস্ত বিরোধীদল তা করার চেষ্টা করছে।’ #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন