এনআরসি নিয়ে ভারত সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র আপত্তি ‘আমসু’র
https://parstoday.ir/bn/news/india-i71082-এনআরসি_নিয়ে_ভারত_সরকারের_নয়া_বিজ্ঞপ্তিতে_তীব্র_আপত্তি_আমসু’র
ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে মেরিট দেখে শুনানির নির্দেশে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা ‘আমসু’।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ০৯, ২০১৯ ১৫:২৬ Asia/Dhaka
  • আজিজুর রহমান
    আজিজুর রহমান

ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে মেরিট দেখে শুনানির নির্দেশে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা ‘আমসু’।

ফরেনারস ট্রাইব্যুনাল সংশোধনী নির্দেশ-২০১৯ এ বলা হয়েছে, এনআরসি ছুটদের ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। যদিও আবেদনের যথার্থতা বিচার করবে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল সমস্ত নথিপত্র দেখার পরে আবেদনের যথার্থতা না থাকলে তার আবেদন খারিজ করে দিতে পারে।  

আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আমসু উপদেষ্টা আজিজুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। কারণ এটি খুব স্পর্শকাতর বিষয়। এনআরসিতে যাদের নাম ঢুকবে না তারা আবেদন জানাবে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের সহমতের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিধান সংযুক্ত করা হবে। কিন্তু ভারত সরকার এনিয়ে একপক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তির ১০ নম্বর কলমে উনারা বলছেন যদি মেরিট না থাকে তাহলে আবেদন সম্পর্কে কোনও শুনানি করবে না। মেরিট থাকলে তাহলে শুনানির নোটিশ করবে। এখন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা যদি পক্ষপাতিত্ব করেন এবং বলেন আপনার আবেদনের কোনো মেরিট নেই তাহলে তার আবেদন শোনা হবে না। যদি শুনানির আবেদন না নেয়া হয় তাহলে লোকেরা বঞ্চিত হবে। এটা একটা অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয় ঢোকানো হয়েছে।’

আজিজুর রহমান বলেন, সরকারের উদ্দেশে আমাদের দাবি, সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। ট্রাইব্যুনালে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম ও মেরিট ইস্যু কমপক্ষে এই দুটি বিষয় পরিবর্তন করুক। খুব শিগগিরি এ ব্যাপারে আমরা ভারত সরকার ও অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবো। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা সাক্ষাত করে আমাদের আপত্তির কথা জানাবো যে এরকম সংস্থান থাকলে ফরেনারস ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে তারা পক্ষপাতদুষ্ট হলে বহু সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হবেন। সবার জন্য সমান ব্যবস্থা থাকা উচিত। সরকারি ওই বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভাষিক সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত হবেন বলেও আমসু উপদেষ্টা আজিজুর রহমান মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের হাতে আবেদনের মেরিট দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দেয়া হলে সেখান থেকে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া লোকেদের খালি হাতে ফিরতে হতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত নয়া নীতিতে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে আবেদনের যথার্থতা আছে তাহলেই কেবল আবেদনকারীর কাছে শুনানির নোটিশ যাবে। যথার্থতা না থাকলে শুনানির নোটিশ যাবে না। এ নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে আমসু।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯     

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।