অসমে এনআরসি থেকে ১ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ, আমসু’র প্রতিক্রিয়া
-
এনআরসি থেকে বাদ পড়া মানুষজন উদ্বিগ্ন
ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৪৬২ জনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এনআরসি কর্তৃপক্ষ আজ (বুধবার) ওই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
গতবছর ৩০ জুলাই প্রকাশিত এনআরসি তালিকায় ৪০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়। এ নিয়ে সেসময় দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক দেখা দেয়। তালিকায় তাদের নাম পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন কয়েক লাখ মানুষ।
কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের অবস্থান হল কোনো অবৈধ নাগরিকের নাম এনআরসি তালিকায় থাকবে না। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, বাংলাদেশি বিতাড়নের নামে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেয়া হচ্ছে।
'খামখেয়ালি বন্ধ করতে হবে’
এদিকে, এনআরসি তালিকায় একবার নাম নথিভুক্ত হওয়ার পরে কীভাবে ফের তা থেকে নাম বাদ গেল তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আমসু) মুখ্য উপদেষ্টা আজিজুর রহমান আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এনআরসি কর্তৃপক্ষকে ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত ১৫/১৬শ’ কোটি টাকা দিয়েছে। অসম সরকারের ৫২ হাজার কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। ওনারা যখন বলেন ওনাদের ভুলক্রমে কিছু লোকের নাম ঢুকে গেছে তখন এটা হাস্যকর কথা হয়ে যায়। কারণ ওদেরকে এত বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় দেয়া হয়েছে, এত শক্তি দেয়া হয়েছে, ব্রেন দেয়া হয়েছে, ৫২ হাজার লোক দেয়া হয়েছে, তোমাদের কেন ভুল হবে? আর ভুল যদি হয় তাহলে গোটা এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের প্রশ্নবোধক চিহ্ন এসে যাবে। সেজন্য আমাদের দাবি, ওনারা যে খামখেয়ালি শুরু করেছেন তা বন্ধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এটা সন্দেহ যে এনআরসির গোটা প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার, অসম সরকার ও এনআরসি কর্তৃপক্ষের চক্রান্ত হতে পারে। কারণ, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উনি গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন জায়গায় দেয়া ভাষণে বলেছিলেন, প্রথম নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত করা এবং তারপরে এনআরসিকে পরিপূর্ণ করা। ওনাদের যে ধ্যান-ধারণা, অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল যদি পাস করতে পারে তাহলে ওই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের দ্বারা যারা উপকৃত হবে বর্তমানে তাদের নাম এনআরসিতে আসছে না। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল যদি আইনে পরিণত হয় তাহলে ওই লোকেদের নাম এনআরসিতে আসবে। এটাও হতে পারে যে, অমিত শাহের ওই বক্তব্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে বললে তা মানবে না সেজন্য ওনারা এখন ধীরে চলো নীতি নিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে রাজি করাবে যে এখন ১ লাখ ২ হাজার ৪৬২ জনের শুনানিতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে। শেষমেশ ৩১ জুলাই নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের যে সময়সীমা দেয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে, যাতে ওই সময়সীমার মধ্যে কাজটা সম্পূর্ণ না হয় এরকম ষড়যন্ত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থাকতে পারে। আমরা এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছি।’
আজিজুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তত্ত্বাবধানে এই কাজ (এনআরসি নবায়ন) চলছে সেজন্য আমরা আশাবাদী যে সুপ্রিম কোর্ট একটা সঠিক সিদ্ধান্ত দেবে যার ফলে অসমের সকলেই উপকৃত হবেন।’
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগের বৈধ নথিপত্র আছে এমন সকলের নাম এনআরসিতে নথিভুক্ত হবে এবং তারা ভারতীয় হিসেবে গণ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আমসু উপদেষ্টা আজিজুর রহমান।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।