অসমে ভয়াবহ বন্যা: ৮ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মৃত ৬
https://parstoday.ir/bn/news/india-i71913-অসমে_ভয়াবহ_বন্যা_৮_লাখেরও_বেশি_মানুষ_ক্ষতিগ্রস্ত_মৃত_৬
ভারতের অসমে ভয়াবহ বন্যায় ৮ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ১৩, ২০১৯ ০৯:০৪ Asia/Dhaka
  • অসমে ভয়াবহ বন্যা: ৮ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মৃত ৬

ভারতের অসমে ভয়াবহ বন্যায় ৮ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে প্রকাশ, রাজ্যের ২১টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদী ও তার সহায়ক নদীর পানিতে ডুবে রয়েছে। কমপক্ষে ৭৪৯টি গ্রাম ও শহর পানিমগ্ন হয়েছে। এরফলে কমপক্ষে ১ হাজার ৫৫৬ টি গ্রামের ৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষজনের জন্য ৫৩টি আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। বন্যার ফলে কমপক্ষে আড়াই লাখ গবাদি পশু আক্রান্ত হয়েছে। 

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গতকাল (শুক্রবার) দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়। সেনা সদস্যরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিমকে সাহায্য করছেন।

রাজ্যে ৩১ টি জেলার মধ্যে ২১ টি জেলা প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে লখিমপুর, ধেমাজি, বিশ্বনাথ, শোনিতপুর, দরং, বাকসা, বরপেটা, নলবাড়ি, চিরাঙ, বঙাইগাঁও, কোকরাঝাড়, মরিগাঁও, নগাঁও, গোলাঘাট, মাজুলি, জোরহাট, ডিব্রুগড় প্রভৃতি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কয়েক হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব এলাকায় খাবার পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। কাজিরঙা ও পবিতরা অভয়ারণ্য প্লাবিত হওয়ায় বন্যপ্রাণীরাও অন্যত্র ঠাই নিতে বাধ্য হয়েছে। 

আহমদ আলী বড়ভুঁইয়া 

অসমে ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে আজ (শনিবার) অসমের ‘এসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন  অফ সিভিল রাইটস বা এপিসিআর-এর রাজ্য কমিটির সদস্য ও রাজ্য লিগ্যাল সেলের কনভেনর আহমদ আলী বড়ভুঁইয়া রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এখানে জল যেভাবে বাড়ছে তাতে যদি সরকারি ত্রাণের কাজ ব্যাপকভাবে শুরু করা না হয় তাহলে প্রচুর লোকের প্রাণহানি হতে পারে এবং একটা দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। যারা কোনোক্রমে বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর সবকিছু ছেড়ে আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে এদের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হল এই মুহূর্তে পানীয় জল। মানুষের কাছে পানীয় জল নেই। কর্দমাক্ত জল খেতে হচ্ছে, এরফলে ডায়েরিয়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হল শুকনো খাবার ও পানীয় জলের। আমরা আশা করছি এই বিপর্যয় মোকাবিলায় অসমের রাজ্য সরকার ব্যাপক তৎপরতা দেখাবে। আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কেন্দ্রীয় সরকার অসমের এই ভয়াবহ বন্যাকে যাতে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করে এবং ব্যাপক সাহায্য পাঠায় আমরা সেই আবেদন জানাচ্ছি। বিগত বছরগুলোতে বন্যায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু এবারের বন্যায় আরও বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।’  

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এরইমধ্যে বন্যাকবলিত জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।#
 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।