অসমে তৈরি হওয়া নাগরিকপঞ্জিতে আস্থা নেই বিজেপির! দলের মধ্যেই বাড়ছে ক্ষোভ
ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে নাগরিকপঞ্জি(এনআরসি)নিয়ে বিজেপির মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। খসড়া তালিকা নিয়ে বিজেপির একাংশের আস্থাও নেই! যদিও বিজেপি অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে এনআরসি নিয়ে তাদের সাফল্যের কথা বলেছিল।
অসম রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসি খসড়ায় নথিভুক্ত হওয়া সীমান্তবর্তী জেলায় ২০ শতাংশ ও অন্য জেলাগুলোতে ১০ শতাংশ নাম ফের যাচাইয়ের আবেদন জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা আদালতে জানান, ইতোমধ্যেই তিনি ২৭ শতাংশ যাচাই করে ফেলেছেন। ফলে, গত (মঙ্গলবার) আদালতে খসড়া পুনর্মূল্যায়ণের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এজন্য প্রতীক হাজেলার উপরে রাজ্য সরকার ও বিজেপি বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছে। আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে এনআরসির চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি এমপি দিলীপ শইকিয়া বলেছেন, ‘প্রতীক হাজেলার কাজে আমরা মোটেই সন্তুষ্ট নই। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মীদের হাত ধরে অনেক অবৈধ ব্যক্তির নাম তালিকায় ঢুকেছে বলে রাজ্য নিশ্চিত। সেজন্য আরও একবার তালিকা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল।’ তার মতে, সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি রাজ্যের দাবি উড়িয়ে দিয়ে হাজেলা ভাল করেননি।
বিজেপি মুখপাত্র ও দলীয় এমপি ডা. রাজদীপ রায় বলেন, ‘আদালতের রায় মানতে হবে কিন্তু ওই রায় নিয়ে বিজেপিতে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম ত্রুটিমুক্ত এনআরসি তৈরি হোক। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না।’
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর আইনি উপদেষ্টা শান্তনু ভরালি বলেন, ‘যদি পুনর্মূল্যায়ণই না হয়, তাহলে অহেতুক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে কী লাভ! এই এনআরসি শুদ্ধ, এমন কথা একজন অসমবাসীও মনে করেন না।’ তার দাবি, অনেক বিদেশির নাম এতে ঢুকে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আজ (বৃহস্পতিবার) অসমের হাইলাকান্দি জেলার ‘অনির্বাণ শিখা’ পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক নুরুল হুদা চৌধুরী রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি আগে বলেছিল, লাখ লাখ বাংলাদেশি মুসলিম অসমের মধ্যে আছে। তারা বিভিন্ন জেলায় বাস করছে। কিন্তু এখন পরীক্ষানিরীক্ষা করার পরে এনআরসি খসড়া যেটা তৈরি হয়েছে তাতে এমন কিছু নেই। সেজন্য বিজেপি চেষ্টা করছে এনআরসি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ যদি পিছিয়ে দেয়া যায় এবং আমাদের দেশীয় অন্য লোক যারা আছে তাদের বাংলাদেশি হিসেবে তৈরি করা যায়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার এজন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সেই সুযোগ দিচ্ছেন না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা শিক্ষিত মানুষজন তারা নথিপত্র সংরক্ষিত করে রাখি। অনেকেই তা রাখতে পারেন না। সেজন্য ভেরিফিকেশনের নামে মানুষজনকে হয়রানি করার চেষ্টা হচ্ছে, এটাই হল মোদ্দা কথা।’
এ প্রসঙ্গে অসমের হাইলাকান্দির বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি কখনও অসমের মানুষের বন্ধু নয়। যারা বিজেপিকে চালাচ্ছে তারা বাঙালিবিরোধী। তারা চাচ্ছে বাঙালিদের অসম থেকে বের করে দিতে। এই বাঙালিদের মধ্যে বেশিরভাগই বাঙালি হিন্দু। ওরা যে (বাংলাদেশির) সংখ্যার কথা বলেছিল সেই সংখ্যার সঙ্গে এনআরসি থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা না মেলায় তাদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে! এজন্য এখন তারা বলছে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের জন্য এনআরসিতে অনেকের নাম ঢুকে গেছে। তারা এজন্য সরাসরি প্রতীক হাজেলাকে আক্রমণ করছে। কাল হয়ত তারা সুপ্রিম কোর্টকেও আক্রমণ করবে! বিজেপির অনেক নেতৃত্ব সুপ্রিম কোর্টেরও সমালোচনা করেছেন।’
বিজেপি একটি সুবিধাবাদী দল তাদের কোনো নীতি, আদর্শের বালাই নেই, তারা যা ইচ্ছে তা করতে পারে বলেও অসমের হাইলাকান্দির বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।